চরম উত্তোজনা, বিক্ষোভ-মিছিল, স্মারকলিপি ও মামলা, চরম উত্তেজনা
মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়মের কারন জানতে গেলে কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে হামলা-মারধর, আহত-৫
ভোলার মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে বিদ্যুৎ কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে বিদ্যুতের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও চার বিদ্যুৎ গ্রাহক আহত হন। এই ঘটনায় দুই পক্ষেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
খবরপেয়ে পুলিশ বিদ্যুৎ অফিস গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন জানিয়েছেন ওসি মাজাহারুল ইসলাম। এছাড়াও উত্তোজনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন ও ভিন্ন দিকে প্রবাহিত যাতে না হয় সেদিক বিবেচনা করে পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে বিদ্যুৎ অফিসে ৪ বিদ্যুৎ গ্রাহককে মারধররে অভিযোগে বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ-মিছিল করেন হাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। পরে তারা ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন।
অপরদিকে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে জানান আবাসিক বিদ্যুৎ কর্মকর্তা মোঃ ফরিদুল ইসলাম।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১১ টায় উপজেলার সদর ডকাবাংলো মোড় ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ অফিসে এই হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
আহত ৫ জন হলেন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান মনির। বিদ্যুৎ গ্রাহক মোঃ শরিফ, মোঃ আক্তার, সোহাগ ও নিরব। এরা হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ গ্রাহক।
জানা যায়, মনপুরায় বিদ্যুৎ গ্রাহকরা রাতে মাত্র দুই ঘন্টা বিদ্যুৎ পান। এনিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে দীর্ঘদিন। সোমবার দুপুর ১১ টার দিকে বিদ্যুৎ বিতরণ ও সমস্যা নিয়ে গ্রাহকরা অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যান। পরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সহ ৪ বিদ্যুৎ গ্রাহক আহত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা তাদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ-মিছিল করে ইউএনও কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন। অপরদিকে বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়।
এই ব্যাপারে আহত বিদ্যুৎ গ্রাহক শরিফ, আক্তার, সোহাগ ও নিরব জানান, রাতে ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও মাত্র এক থেকে দেড় ঘন্টা বিদ্যুৎ পাই। তাছাড়া একটু বেশি সময় বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য একস্ট্রা টাকা চায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির। টাকা না দিলে লাইন কেটে দেয়। এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির ক্ষেপে মারধর করে জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরের বিচার দাবী করেন।
এই ব্যাপারে বিদ্যুৎ অফিসের (ওজোপাডিকো) দায়িত্বরত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামান মনির জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। গ্রাহকরা কোন কথা না শুনে আমার ওপর হামলা করে মারধরে করে। থানায় মামলা করেছি। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য একস্ট্রা টাকার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
এই ব্যাপারে মনপুরা আবাসিক প্রকৌশলী ( বিদ্যুৎ) মোঃ ফরিদুল ইসলাম জানান, পাওয়ার হাউজের তিনটি মেশিনের মধ্যে দুইটি নষ্ট। একটি দিয়ে কোনমতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাদের মারধর করা ঠিক হয়নি। যারা ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তিনি এখন সন্দীপে অবস্থান করছেন। সন্দীপ পাওয়ার হাউস থেকে একটি মেশিন এনে মনপুরার বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক করা হবে।
এই ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান, খবরে পেয়ে পুলিশ বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও বিদ্যুৎ কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
এই ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা তজুমুদ্দিন উপজেলার সহকারি কমিশনার তড়িৎ চন্দ্র শীল জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়ে গেছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্ঠা করা হবে।














