ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo গ্যাস সংকটসহ ১০ দফা দাবিতে পঞ্চগড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি Logo বর্ণাঢ্য আয়োজনে “বাংলার জনপদ” এর দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ উদযাপন Logo Logo সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে বজ্রপাতে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু Logo গাছে বেঁধে শিক্ষককে নির্যাতনের অভিযোগ, থানায় এজাহার Logo বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ৫ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা, আটক-৩ Logo গাইবান্ধায় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস Logo মনপুরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত Logo “জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বাস্তবায়ন করবে সরকার” – প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ Logo চার বিয়ের দাবির মধ্যেই আরেক নারীর ঘরে আটক জামায়াত সমর্থক, থানায় সোপর্দ

গাছে বেঁধে শিক্ষককে নির্যাতনের অভিযোগ, থানায় এজাহার

পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি:
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৭

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং স্কুলব্যাগে থাকা জমি বন্ধক ফেরতের জন্য আনা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

ভুক্তভোগী মাহামুদ আলম প্রধান, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৭১ নম্বর গড়িনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি এজহার দাখিল করেছেন। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এজহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মাগুরা প্রধানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত সফিজুল, নুর ইসলাম, বাবুসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে অর্ধদিবস ছুটি নিয়ে তিনি ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে রওনা দেন। পথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন তার গতিরোধ করে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। এতে তার বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ভেঙে যায়। একপর্যায়ে তাকে একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে গলা থেকে পা পর্যন্ত রশি দিয়ে বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

এ সময় তার স্কুলব্যাগে থাকা জমি বন্ধক ফেরতের জন্য আনা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তাকে হত্যা, লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া এবং বাড়িতে আগুন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মাহামুদ আলম প্রধানের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কেউ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহামুদ আলম প্রধান বলেন, “ভিডিওতে সবাই দেখেছেন আমাকে কীভাবে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছিল। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

অভিযুক্ত আনসার আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে বিষয়টি শুনেছি।”

মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বলেন, “মোবাইলে জানতে পারি তিনি বিপদে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম পুলিশকে পাঠাই। তবে এরই মধ্যে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।”

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষক একটি এজহার দাখিল করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:১৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
    • আপনি কি আমাদের ওয়েবসাইট এর নিয়মিত দর্শক..?

      View Results

      Loading ... Loading ...
  • পুরনো ফলাফল
    Logo
    শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
    ফজরসময়
    জোহরসময়
    আসরসময়
    মাগরিবসময়
    ইশাসময়
    সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

    গাছে বেঁধে শিক্ষককে নির্যাতনের অভিযোগ, থানায় এজাহার

    আপডেট সময় : ০৮:১৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
    ১৭

    পঞ্চগড় সদর উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় তার মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং স্কুলব্যাগে থাকা জমি বন্ধক ফেরতের জন্য আনা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

    ভুক্তভোগী মাহামুদ আলম প্রধান, পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৭১ নম্বর গড়িনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। তিনি এ ঘটনায় ১২ জনকে আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি এজহার দাখিল করেছেন। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    এজহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মাগুরা প্রধানপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত সফিজুল, নুর ইসলাম, বাবুসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

    ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করে অর্ধদিবস ছুটি নিয়ে তিনি ব্যাংকের প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে রওনা দেন। পথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন তার গতিরোধ করে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। এতে তার বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ভেঙে যায়। একপর্যায়ে তাকে একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে গলা থেকে পা পর্যন্ত রশি দিয়ে বেঁধে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।

    এ সময় তার স্কুলব্যাগে থাকা জমি বন্ধক ফেরতের জন্য আনা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে তাকে হত্যা, লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া এবং বাড়িতে আগুন দিয়ে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    মাহামুদ আলম প্রধানের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে কেউ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

    হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাহামুদ আলম প্রধান বলেন, “ভিডিওতে সবাই দেখেছেন আমাকে কীভাবে গাছে বেঁধে রাখা হয়েছিল। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”

    অভিযুক্ত আনসার আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। পরে বাড়িতে এসে বিষয়টি শুনেছি।”

    মাগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র বলেন, “মোবাইলে জানতে পারি তিনি বিপদে আছেন। সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম পুলিশকে পাঠাই। তবে এরই মধ্যে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।”

    পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “ভুক্তভোগী শিক্ষক একটি এজহার দাখিল করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”