ঢাকা ১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোটসহ ১৬ জেলেকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী Logo বরিশাল-ভোলা সংযোগ: উন্নয়নের প্রত্যাশা নাকি অগ্রাধিকারের সংকট? Logo মনপুরায় জেলের জালে ১৬ কেজির কোড়াল, নিলামে বিক্রি ২৪ হাজার টাকায় Logo লালমোহনে অবৈধ সিগারেট ও রোলিং পেপার জব্দ, গোডাউন মালিকদের নিয়ে প্রশ্ন Logo স্বামীর ধারালো অস্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম, হাসপাতালে স্ত্রী Logo রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা: সরকারের আকার বাড়লেই কি বাড়ে সক্ষমতা? Logo নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯ Logo সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছেলের চিকিৎসা খরচের সহায়তা করতে রিকশা চালক বাবার আকুতি

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩৮২

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
সংসারের একমাত্র ছেলে মো. তামজিদ। তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে অসহায় বাবা-মায়ের অসচ্ছল পরিবারের হাল ধরবে। সে লক্ষ্যে পড়ালেখাও চালিয়ে যাচ্ছিল সে। ২০২৪ সালে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছিল তামজিদ। তবে ওই বছরের মে মাসে এক প্রতিবেশীর রেইনট্রি গাছে উঠে অসাবধানতাবশত পড়ে যায় সে। এতে মেরুদণ্ডে প্রচণ্ড আঘাত পায় তামজিদ। এরপর তাকে দ্রুত ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেয় পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীদের দেয়া সহযোগিতায় মোটামুটি চিকিৎসা করানো হয় তার। অর্থাভাবে ছেলের পুরো চিকিৎসা করাতে পারেননি রিকশা চালক বাবা। ওই চিকিৎসার পর কয়েকদিন ভালো থাকলেও ফের মেরুদণ্ডে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। এরপর তাকে আবার ঢাকায় নেয়া হয়। ঢাকার ইসলামিয়া হাসপাতালে নিলে সেখানের চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, তামজিদের মেরুদণ্ডের পাশের হাঁড় ভেঙে রয়েছে। এ জন্য দ্রুত তার অপারেশন করতে হবে। না হয় ধীরে ধীরে তামজিদের পুরো একপাশ অবশ হয়ে সে আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাবে। ওই অপারেশন করতে লাগবে ৫ লাখ টাকা। এতো টাকার কথা শুনে রিকশা চালক অসহায় বাবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। তামজিদ ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর ছকিনা এলাকার হাওলাদার বাড়ির মো. বাবুল হাওলাদারের ছেলে।
তিনি বলেন, আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলে তামজিদ লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় গত বছর ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ওই বছর রেইনট্রি গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তার পেছনের মেরুদণ্ডের হাঁড় ভেঙে যায়। অর্থাভাবে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে তাকে পরিপূর্ণ চিকিৎসাও করাতে পারেনি। প্রতিবেশীরা যা সহযোগিতা করেছিল তা দিয়ে ছেলের মোটামুটি চিকিৎসা করিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসি। তবে এর কিছু দিন পর আবারো তার মেরুদণ্ডে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। যার জন্য তাকে ঢাকার ইসলামিয়া হাসপাতালে নেই। সেখানের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তামজিদের মেরুদণ্ডের হাঁড় পুরোপুরিভাবে ভেঙে গেছে। যার জন্য দ্রুত তাকে অপারেশন করাতে হবে। আর ওই অপারেশন করতে দরকার হবে ৫ লাখ টাকার। আমি গরিব মানুষ, এখন এতো টাকা কোথায় পাবো। আমার সম্পদ বলতে রয়েছে কেবল বসতভিটাটুকুই। আমার ছেলেকে পঙ্গুত্ববরণ থেকে রক্ষা করতে সরকারি-বেসরকারি ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
তামজিদের মা মোসা. কহিনুর বেগম জানান, আমার একজন মাত্র ছেলে। সে চোখের সামনে চিকিৎসার অভাবে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা কিছুই করতে পারছি না। আশা ছিল আমাদের বৃদ্ধ বয়সে ছেলেটা আমাদের সংসারের হাল ধরবে। এখন তারই জীবন অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। সবাইকে আমার ছেলের পরিপূর্ণ চিকিৎসার করাতে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি।
অসুস্থ মো. তামজিদ জানায়, আমাদের অভাবের সংসার। বাবা অনেক কষ্ট করে এই সংসারটি চালাচ্ছে। তাই আমার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা করে কোনো একটি চাকরি নিয়ে সংসারের হাল ধরবো। এখন আমিই সংসারের বোঝা হয়ে যাচ্ছি। গাছ থেকে পড়ে আমার মেরুদণ্ডের হাঁড় ভেঙে গেছে। এরপর বাবা-মা অনেক কষ্ট করে মোটামুটি চিকিৎসা করিয়েছেন। এখন আবারো মেরুদণ্ডে ব্যথা হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলেছেন ৫ লাখ টাকা লাগবে। না হয় আমি আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাবো। বর্তমানে আমি সোজা হয়ে হাঁটতেও পারছি না। হাঁটতে গেলে মেরুদণ্ডে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। আমি সুস্থ হয়ে আবার পড়ালেখা করতে চাই। এরপর আমি অসহায় বাবা-মায়ের এই দুঃখ-কষ্ট দূর করতে চাই। এজন্য আমার চিকিৎসা করানো জরুরি। আর এতে অনেক টাকারও দরকার। তাই সবাইকে আমার চিকিৎসা ব্যয় বহনের জন্য আর্থিক সহযেগিতা করার বিনীত অনুরোধ করছি। আমার বাবার ০১৭৪৬৮৯০৪১৫ (নগদ) এবং ০১৮৫৯৪৮৮৫৪৩ (বিকাশ) এই নম্বরে যোগাযোগ করে যে কেউ সহযোগিতা করতে পারবেন।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, বিষয়টি মানবিক। অসুস্থ ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আবেদন করলে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:০৬ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ৩১৫ বার পড়া হয়েছে
Logo
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

ছেলের চিকিৎসা খরচের সহায়তা করতে রিকশা চালক বাবার আকুতি

আপডেট সময় : ০১:৩০:০৬ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৩৮২

লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি:
সংসারের একমাত্র ছেলে মো. তামজিদ। তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে অসহায় বাবা-মায়ের অসচ্ছল পরিবারের হাল ধরবে। সে লক্ষ্যে পড়ালেখাও চালিয়ে যাচ্ছিল সে। ২০২৪ সালে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছিল তামজিদ। তবে ওই বছরের মে মাসে এক প্রতিবেশীর রেইনট্রি গাছে উঠে অসাবধানতাবশত পড়ে যায় সে। এতে মেরুদণ্ডে প্রচণ্ড আঘাত পায় তামজিদ। এরপর তাকে দ্রুত ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেয় পরিবারের সদস্যরা। প্রতিবেশীদের দেয়া সহযোগিতায় মোটামুটি চিকিৎসা করানো হয় তার। অর্থাভাবে ছেলের পুরো চিকিৎসা করাতে পারেননি রিকশা চালক বাবা। ওই চিকিৎসার পর কয়েকদিন ভালো থাকলেও ফের মেরুদণ্ডে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। এরপর তাকে আবার ঢাকায় নেয়া হয়। ঢাকার ইসলামিয়া হাসপাতালে নিলে সেখানের চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, তামজিদের মেরুদণ্ডের পাশের হাঁড় ভেঙে রয়েছে। এ জন্য দ্রুত তার অপারেশন করতে হবে। না হয় ধীরে ধীরে তামজিদের পুরো একপাশ অবশ হয়ে সে আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাবে। ওই অপারেশন করতে লাগবে ৫ লাখ টাকা। এতো টাকার কথা শুনে রিকশা চালক অসহায় বাবার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। তামজিদ ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়ন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর ছকিনা এলাকার হাওলাদার বাড়ির মো. বাবুল হাওলাদারের ছেলে।
তিনি বলেন, আমার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলে তামজিদ লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় গত বছর ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ওই বছর রেইনট্রি গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তার পেছনের মেরুদণ্ডের হাঁড় ভেঙে যায়। অর্থাভাবে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে তাকে পরিপূর্ণ চিকিৎসাও করাতে পারেনি। প্রতিবেশীরা যা সহযোগিতা করেছিল তা দিয়ে ছেলের মোটামুটি চিকিৎসা করিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসি। তবে এর কিছু দিন পর আবারো তার মেরুদণ্ডে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। যার জন্য তাকে ঢাকার ইসলামিয়া হাসপাতালে নেই। সেখানের চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তামজিদের মেরুদণ্ডের হাঁড় পুরোপুরিভাবে ভেঙে গেছে। যার জন্য দ্রুত তাকে অপারেশন করাতে হবে। আর ওই অপারেশন করতে দরকার হবে ৫ লাখ টাকার। আমি গরিব মানুষ, এখন এতো টাকা কোথায় পাবো। আমার সম্পদ বলতে রয়েছে কেবল বসতভিটাটুকুই। আমার ছেলেকে পঙ্গুত্ববরণ থেকে রক্ষা করতে সরকারি-বেসরকারি ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
তামজিদের মা মোসা. কহিনুর বেগম জানান, আমার একজন মাত্র ছেলে। সে চোখের সামনে চিকিৎসার অভাবে পঙ্গু হয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা কিছুই করতে পারছি না। আশা ছিল আমাদের বৃদ্ধ বয়সে ছেলেটা আমাদের সংসারের হাল ধরবে। এখন তারই জীবন অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে। সবাইকে আমার ছেলের পরিপূর্ণ চিকিৎসার করাতে আমাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ করছি।
অসুস্থ মো. তামজিদ জানায়, আমাদের অভাবের সংসার। বাবা অনেক কষ্ট করে এই সংসারটি চালাচ্ছে। তাই আমার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা করে কোনো একটি চাকরি নিয়ে সংসারের হাল ধরবো। এখন আমিই সংসারের বোঝা হয়ে যাচ্ছি। গাছ থেকে পড়ে আমার মেরুদণ্ডের হাঁড় ভেঙে গেছে। এরপর বাবা-মা অনেক কষ্ট করে মোটামুটি চিকিৎসা করিয়েছেন। এখন আবারো মেরুদণ্ডে ব্যথা হচ্ছে। চিকিৎসকরা বলেছেন ৫ লাখ টাকা লাগবে। না হয় আমি আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাবো। বর্তমানে আমি সোজা হয়ে হাঁটতেও পারছি না। হাঁটতে গেলে মেরুদণ্ডে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। আমি সুস্থ হয়ে আবার পড়ালেখা করতে চাই। এরপর আমি অসহায় বাবা-মায়ের এই দুঃখ-কষ্ট দূর করতে চাই। এজন্য আমার চিকিৎসা করানো জরুরি। আর এতে অনেক টাকারও দরকার। তাই সবাইকে আমার চিকিৎসা ব্যয় বহনের জন্য আর্থিক সহযেগিতা করার বিনীত অনুরোধ করছি। আমার বাবার ০১৭৪৬৮৯০৪১৫ (নগদ) এবং ০১৮৫৯৪৮৮৫৪৩ (বিকাশ) এই নম্বরে যোগাযোগ করে যে কেউ সহযোগিতা করতে পারবেন।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, বিষয়টি মানবিক। অসুস্থ ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে আবেদন করলে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

Facebook Comments Box