ঢাকা ০৩:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo মনপুরায় জেলের জালে ১৬ কেজির কোড়াল, নিলামে বিক্রি ২৪ হাজার টাকায় Logo লালমোহনে অবৈধ সিগারেট ও রোলিং পেপার জব্দ, গোডাউন মালিকদের নিয়ে প্রশ্ন Logo স্বামীর ধারালো অস্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম, হাসপাতালে স্ত্রী Logo রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা: সরকারের আকার বাড়লেই কি বাড়ে সক্ষমতা? Logo নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯ Logo সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo তজুমদ্দিনে ৪১টি চান্দিনা ভিটা বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন। Logo তেঁতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, চবিতে দুদকের অভিযান

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩৬৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিভিন্ন পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনিক ভবনে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পরে কমিশন বরাবর জমা দেওয়া হবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে তিনজনের একটি টিম এই অভিযান শুরু করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ।

দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের সময়কালের নিয়োগসংক্রান্ত নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় কয়েকশ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে কিছু নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক শামীমের মেয়েকে ফাইন্যান্স বিভাগে নিয়োগ, প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক কামালের কথিত ভাগ্নের নিয়োগ (যা তিনি অস্বীকার করেছেন) এবং ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে রেজিস্ট্রার সাইফুলের ভাইয়ের নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। এসব নিয়োগে স্বজনপ্রীতির কোন বিষয় রয়েছে কি না, তা রেকর্ডপত্র যাচাই করে পরবর্তীতে নিশ্চিত করা যাবে।

সায়েদ আলম আরও বলেন, আমরা রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে যাচাই করব যে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো আইনানুগ ছিল কী না। এ মুহূর্তে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে নিয়োগগুলো বৈধ না অবৈধ। কারণ এখনো আমাদের কাছে নাম্বার শিটসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র আসেনি। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে যে, ফার্সি বিভাগ ও বাংলা বিভাগে প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব বিষয়ও আমরা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী পর্যালোচনা করব।

তিনি বলেন, সবকিছু পর্যালোচনা শেষে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুদক কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন দাখিলের আগে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব নয়। কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে, নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা দুদককে চবিতে স্বাগত জানিয়েছি। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের প্রশাসনে এ পর্যন্ত গত দেড় বছরে কোনোপ্রকার অনিয়ম হয়েছে বলে কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না। আমরা চাই, দুদকের টিম প্রতিনিয়ত আসুক, স্বচ্ছতা যাচাই করুক।

তিনি বলেন, এই প্রশাসনের আমলে সর্বমোট ৩২১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ৭৮ জন, কর্মকর্তা ১৬ জন, ৩য় শ্রেণির কর্মচারী ৮৮ জন এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ১৩৯ জন। এরমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এমন ছিলো, যারা ওই পদে আগে থেকেই অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন, তাদেরকে স্থায়ী করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানও নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমরা চবিতে আউটকাম বেসড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছি। সেজন্য, অনেক বিভাগে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ করা প্রয়োজন ছিল। তবে, চবিতে এ পর্যন্ত যত নিয়োগ হয়েছে একটিতেও কেউ অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারবে না।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:১৩:৪৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২৬৯ বার পড়া হয়েছে
Logo
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, চবিতে দুদকের অভিযান

আপডেট সময় : ০৭:১৩:৪৬ অপরাহ্ণ, বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
৩৬৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিভিন্ন পদে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনিক ভবনে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ৪৮ ঘণ্টা পরে কমিশন বরাবর জমা দেওয়া হবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন।

বুধবার দুপুর ১২টার দিকে দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলমের নেতৃত্বে তিনজনের একটি টিম এই অভিযান শুরু করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ।

দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের সময়কালের নিয়োগসংক্রান্ত নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় কয়েকশ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে কিছু নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-প্রোভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক শামীমের মেয়েকে ফাইন্যান্স বিভাগে নিয়োগ, প্রোভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক কামালের কথিত ভাগ্নের নিয়োগ (যা তিনি অস্বীকার করেছেন) এবং ল্যাবরেটরি স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে রেজিস্ট্রার সাইফুলের ভাইয়ের নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। এসব নিয়োগে স্বজনপ্রীতির কোন বিষয় রয়েছে কি না, তা রেকর্ডপত্র যাচাই করে পরবর্তীতে নিশ্চিত করা যাবে।

সায়েদ আলম আরও বলেন, আমরা রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে যাচাই করব যে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলো আইনানুগ ছিল কী না। এ মুহূর্তে আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না যে নিয়োগগুলো বৈধ না অবৈধ। কারণ এখনো আমাদের কাছে নাম্বার শিটসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র আসেনি। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে যে, ফার্সি বিভাগ ও বাংলা বিভাগে প্ল্যানিং কমিটির সুপারিশ ছাড়াই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব বিষয়ও আমরা সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী পর্যালোচনা করব।

তিনি বলেন, সবকিছু পর্যালোচনা শেষে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুদক কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন দাখিলের আগে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব নয়। কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে, নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা দুদককে চবিতে স্বাগত জানিয়েছি। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতারের প্রশাসনে এ পর্যন্ত গত দেড় বছরে কোনোপ্রকার অনিয়ম হয়েছে বলে কেউ প্রমাণ দিতে পারবে না। আমরা চাই, দুদকের টিম প্রতিনিয়ত আসুক, স্বচ্ছতা যাচাই করুক।

তিনি বলেন, এই প্রশাসনের আমলে সর্বমোট ৩২১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক ৭৮ জন, কর্মকর্তা ১৬ জন, ৩য় শ্রেণির কর্মচারী ৮৮ জন এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী ১৩৯ জন। এরমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এমন ছিলো, যারা ওই পদে আগে থেকেই অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন, তাদেরকে স্থায়ী করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানও নিয়োগে অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমরা চবিতে আউটকাম বেসড এডুকেশন (ওবিই) পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছি। সেজন্য, অনেক বিভাগে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োগ করা প্রয়োজন ছিল। তবে, চবিতে এ পর্যন্ত যত নিয়োগ হয়েছে একটিতেও কেউ অনিয়মের প্রমাণ দিতে পারবে না।

Facebook Comments Box