ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo লালমোহনে অবৈধ সিগারেট ও রোলিং পেপার জব্দ, গোডাউন মালিকদের নিয়ে প্রশ্ন Logo স্বামীর ধারালো অস্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম, হাসপাতালে স্ত্রী Logo রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা: সরকারের আকার বাড়লেই কি বাড়ে সক্ষমতা? Logo নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯ Logo সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo তজুমদ্দিনে ৪১টি চান্দিনা ভিটা বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন। Logo তেঁতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার Logo ইসকনের নামে অনুদান, জমির মালিকানা নিয়ে নতুন বিতর্ক অর্থ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ

পুঠিয়ায় সরকারি ১৮ বিঘা জমির মালিক এখন প্রভাবশালীরা, উদ্ধারে চুপ ভূমি সংশ্লিষ্টরা!

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২১১

তানিয়া আক্তার স্টাফ রিপোর্টার।
সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের জমি কোনো ভাবেই সাধারণ মানুষ মালিক হওয়া সম্ভব নয়। তবুও রাজশাহীর পুঠিয়ায় তা সম্ভব করে দিয়েছেন ভূমি সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। উপজেলার চক পলাশী মোজায় ৮৬২ নং দাগে ৬.১০ একর জমির মালিক সরকার অথচ ওই জায়গায় বর্তমান মালিক উক্ত এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, যাদের নামে এখন চলছে খাজনা খারিজ। যদিও ভূমি আইনে তা কখনোই সম্ভব না। আর অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন ভূমি সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ধোপাপাড়া এলাকার চক পলাশীতে সরকারি ওই জায়গার মুনছুর রহমান দিং, পিতা আব্দুর শাহ তারা দখল ও নিজ নামে করে নিয়েছেন ৪.৭ একর জমি। পরে আরো ২.৩ একর জমি বেহাত হয়ে চলে গেছে অন্য আরেকটি খতিয়ানে। এক সময় ওই যায়গা সরকার কয়েকজন ব্যক্তিকে খাওয়ার জন্য কবুলত ও পত্তন করেন সরকার। এরপরে সরকারি ওই জায়গা জমি নিজের নামে মালিকানা করে নিতে ভূমি কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজশে সে কাজ করে, পরে সফলও হয় ওই প্রভাবশালীরা। যদিও তৎকালীন কানুনগো ১৬-০৬-১৯৮৮ সালে ভলিউম বইয়ে লিখে রেখেও যান সবকিছুই ভুয়া ও জমি সরকারের।
পরে ২০১৬ সালে সরকারি জায়গা জমি উদ্ধার করার লক্ষে স্হানীয় ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত দায়ের করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ০১-০৮-২০১৭ সালে প্রায় ৭ বছর আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করার জন্য পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে মামলা করার আদেশ দিলেও, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার মামলা করতেও গড়িমসি করেছেন। কেন এতো বছরেও উদ্যোগ নেয়া হয় নি সরকারি সম্পত্তি তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি কেউই। চলতি বছরের মে মাসে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন সানিয়া বিনতে আফজাল, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে জন্ম নিচ্ছে নানান রকম প্রশ্ন। আর আংগুল তুলেছেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের উপর।

এছাড়াও দেখা যাচ্ছে ওই সম্পত্তিগুলো বিভিন্নভাবে হাত বদল হতে। ইতোমধ্যে কেউ কেউ ওই জমি বিক্রিও করে দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর একাধিক ব্যক্তিরা বলছেন টাকা দিয়ে সরকারি জমি কিনে ভবিষ্যতে তারা বিপদে পড়বেন। কিভাবে সরকারি জমি নিজের নামে দলিল করে নেয় এটাও তাদের জানা নেই। সেই জমিগুলো আবার নিজ নামে দলিল করার পর বিক্রিও করে দিচ্ছেন হরহামেশাতে। জমি সংশ্লিষ্টদের এমন অবজ্ঞার কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে সাধারণ মানুষের।

ওই সম্পত্তি ভোগ দখলকারী কামরুল ইসলাম কামু তিনি বলেন, জমিতে কোন সমস্যা নাই ওইগুলো আমাদের জমি। যদি কোন সমস্যা থাকে, এ বিষয়ে আইন কানুন আছে তারা দেখবে।

জমি উদ্ধারে কেনো মামলা করা হয় নি এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবাশীষ বসাক তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সে সময় আমি এখানে ছিলাম না। আপনাদের কাছে যে কাগজপত্র দেখছি, সেগুলো রেখে যান, দেখেশুনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৬:২১ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩ ১২১ বার পড়া হয়েছে
Logo
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

পুঠিয়ায় সরকারি ১৮ বিঘা জমির মালিক এখন প্রভাবশালীরা, উদ্ধারে চুপ ভূমি সংশ্লিষ্টরা!

আপডেট সময় : ০৮:৩৬:২১ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৩
২১১

তানিয়া আক্তার স্টাফ রিপোর্টার।
সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের জমি কোনো ভাবেই সাধারণ মানুষ মালিক হওয়া সম্ভব নয়। তবুও রাজশাহীর পুঠিয়ায় তা সম্ভব করে দিয়েছেন ভূমি সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। উপজেলার চক পলাশী মোজায় ৮৬২ নং দাগে ৬.১০ একর জমির মালিক সরকার অথচ ওই জায়গায় বর্তমান মালিক উক্ত এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, যাদের নামে এখন চলছে খাজনা খারিজ। যদিও ভূমি আইনে তা কখনোই সম্ভব না। আর অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন ভূমি সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ধোপাপাড়া এলাকার চক পলাশীতে সরকারি ওই জায়গার মুনছুর রহমান দিং, পিতা আব্দুর শাহ তারা দখল ও নিজ নামে করে নিয়েছেন ৪.৭ একর জমি। পরে আরো ২.৩ একর জমি বেহাত হয়ে চলে গেছে অন্য আরেকটি খতিয়ানে। এক সময় ওই যায়গা সরকার কয়েকজন ব্যক্তিকে খাওয়ার জন্য কবুলত ও পত্তন করেন সরকার। এরপরে সরকারি ওই জায়গা জমি নিজের নামে মালিকানা করে নিতে ভূমি কর্মকর্তা কর্মচারীর যোগসাজশে সে কাজ করে, পরে সফলও হয় ওই প্রভাবশালীরা। যদিও তৎকালীন কানুনগো ১৬-০৬-১৯৮৮ সালে ভলিউম বইয়ে লিখে রেখেও যান সবকিছুই ভুয়া ও জমি সরকারের।
পরে ২০১৬ সালে সরকারি জায়গা জমি উদ্ধার করার লক্ষে স্হানীয় ওমর ফারুক নামের এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত দায়ের করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ০১-০৮-২০১৭ সালে প্রায় ৭ বছর আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করার জন্য পাইকপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে মামলা করার আদেশ দিলেও, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার মামলা করতেও গড়িমসি করেছেন। কেন এতো বছরেও উদ্যোগ নেয়া হয় নি সরকারি সম্পত্তি তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি কেউই। চলতি বছরের মে মাসে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন সানিয়া বিনতে আফজাল, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর। সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে জন্ম নিচ্ছে নানান রকম প্রশ্ন। আর আংগুল তুলেছেন প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের উপর।

এছাড়াও দেখা যাচ্ছে ওই সম্পত্তিগুলো বিভিন্নভাবে হাত বদল হতে। ইতোমধ্যে কেউ কেউ ওই জমি বিক্রিও করে দিয়েছেন।
এলাকাবাসীর একাধিক ব্যক্তিরা বলছেন টাকা দিয়ে সরকারি জমি কিনে ভবিষ্যতে তারা বিপদে পড়বেন। কিভাবে সরকারি জমি নিজের নামে দলিল করে নেয় এটাও তাদের জানা নেই। সেই জমিগুলো আবার নিজ নামে দলিল করার পর বিক্রিও করে দিচ্ছেন হরহামেশাতে। জমি সংশ্লিষ্টদের এমন অবজ্ঞার কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে সাধারণ মানুষের।

ওই সম্পত্তি ভোগ দখলকারী কামরুল ইসলাম কামু তিনি বলেন, জমিতে কোন সমস্যা নাই ওইগুলো আমাদের জমি। যদি কোন সমস্যা থাকে, এ বিষয়ে আইন কানুন আছে তারা দেখবে।

জমি উদ্ধারে কেনো মামলা করা হয় নি এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবাশীষ বসাক তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সে সময় আমি এখানে ছিলাম না। আপনাদের কাছে যে কাগজপত্র দেখছি, সেগুলো রেখে যান, দেখেশুনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box