ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo লালমোহনে দুধে পানি মেশানোর অভিযোগে বিক্রেতার মাথায় দুধ ঢাললেন পৌর কর্মকর্তা Logo বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোটসহ ১৬ জেলেকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী Logo বরিশাল-ভোলা সংযোগ: উন্নয়নের প্রত্যাশা নাকি অগ্রাধিকারের সংকট? Logo মনপুরায় জেলের জালে ১৬ কেজির কোড়াল, নিলামে বিক্রি ২৪ হাজার টাকায় Logo লালমোহনে অবৈধ সিগারেট ও রোলিং পেপার জব্দ, গোডাউন মালিকদের নিয়ে প্রশ্ন Logo স্বামীর ধারালো অস্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম, হাসপাতালে স্ত্রী Logo রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা: সরকারের আকার বাড়লেই কি বাড়ে সক্ষমতা? Logo নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯

ফুলবাড়ীতে বন্যায় স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে পাট চাষীদের

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২১২

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গত বছর পাট চাষের অনূকূল আবহাওয়া থাকায় ভালো ফলন পেয়েছিলেন চাষিরা। পাশাপাশি বাজারে পাটের ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় খুশি ছিলেন চাষিরা। লাভবান হওয়ায় এবারেও পাট চাষাবাদে ঝুঁকেছেন উপজেলার অনেক কৃষক। কিন্তু এবারে বিধি বাম। গত বছর পাট চাষের অনূকূল আবহাওয়া থাকলেও এবারে তার উল্টো। জমিতে বীজ বপন করতেই টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে অনেকের পাটক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে অগ্রাহ্য করেই চাষিরা আবারও জমিতে পাটবীজ বপন করেন। দফায় দফায় বৃষ্টির বাগড়াকে উপেক্ষা করে নিবিড় মমতায় পাট ক্ষেতের পরিচর্যা করতে থাকেন। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে দিনে দিনে সবুজে ছেয়ে যায় ক্ষেত। সবুজ পাটক্ষেতে দোল খায় কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। সোনালি আঁশ খ্যাত পাট চাষাবাদ করে লাভবান হওয়ার আশায় বুক বাঁধেন চাষিরা। কিন্তু এবারে তাদের আশার পাতে ছাই। টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় ক্ষেত। পানি নেমে গেলেও পাটগাছে আঁশ না হতেই মরে গেছে ক্ষেতের ফসল। ভেঙ্গে গেছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। সবুজ পাটক্ষেত হয়েছে বিবর্ণ। ফসল হারানোর শোকে এখন বিমর্ষ কৃষক।
লাভ নয় পাট চাষাবাদ করে এবছর লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক কৃষক।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষামত প্রাণকৃঞ্চ গ্রামের কৃষক আশরাফুল আলম বলেন, এবারে বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে বেশি ঘাস হওয়ায় অধিক ব্যয় করে ক্ষেতের পরিচর্যা করতে হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে বেশি খরচ করেও বন্যার কারণে ফসল ঘরে তুলতে পারলাম না। ক্ষেতের পাট গাছ ক্ষেতেই মরে গেছে। পাট চাষাবাদ করে লাভবান হওয়া তো দুরের কথা এবারে সমুদয় টাকা লোকসান গুনতে হবে।

আরেক পাটচাষি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গত বছর পাট চাষাবাদ করে লাভবান হওয়ায় আমি এবার বীজ ও সার কিনে ২ বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছি। সব মিলিয়ে পাট চাষাবাদ করতে আমার প্রায় বিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বন্যায় ক্ষেত ডুবে সব শেষ।

বড়ভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম ধনিরাম গ্রামের নজিব হোসেন বলেন, আমি দেড় বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছি। চাষাবাদে আমার প্রায় চৌদ্দ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পাটক্ষেত বানের পানিতে ডুবে পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। একই এলাকার
আজিজুল হক, বীরমুক্তিযোদ্ধা মহির উদ্দিন, সানাউল্লা মাস্টার, জোবেদ আলী, আব্দুল হক সহ কয়েকজন কৃষক বলেন, আমাদের এখানে প্রায় পঞ্চাশ বিঘা জমির পাটক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

পূর্ব ধনিরাম গ্রামের পাটচাষিদের জমিতে গিয়ে দেখা গেছে, পাট ক্ষেতের অপরিপক্ক পাট গাছ মরে কালো হয়ে গেছে। পাটচাষি এরশাদুল হক, মজিবর রহমান, ভূপতি ভূষণ ও জাইদুল হক বলেন, গতবছর পাটচাষ করে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবারেও পাট চাষাবাদ করেছি। এবারে পাট কাটার আগেই ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের পরিশ্রম ও অর্থ এবারে বৃথা হয়ে গেল। এমন লোকসানে এর আগে আমরা কখনো পড়িনি। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা সরকারি সহায়তা চাই।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, উপজেলায় এবারে ৫৩০ হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ৬০ হেক্টর জমির পাটক্ষেত সহ আউশ ও শাক সবজি ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যায় উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬’শ ৭২ জন কৃৃৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রনয়ণ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই ২০২২ ১২০ বার পড়া হয়েছে
Logo
বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

ফুলবাড়ীতে বন্যায় স্বপ্ন ভেঙ্গে গেছে পাট চাষীদের

আপডেট সময় : ১২:৫৫:৫৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই ২০২২
২১২

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে গত বছর পাট চাষের অনূকূল আবহাওয়া থাকায় ভালো ফলন পেয়েছিলেন চাষিরা। পাশাপাশি বাজারে পাটের ভালো দাম ও চাহিদা থাকায় খুশি ছিলেন চাষিরা। লাভবান হওয়ায় এবারেও পাট চাষাবাদে ঝুঁকেছেন উপজেলার অনেক কৃষক। কিন্তু এবারে বিধি বাম। গত বছর পাট চাষের অনূকূল আবহাওয়া থাকলেও এবারে তার উল্টো। জমিতে বীজ বপন করতেই টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে অনেকের পাটক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। তারপরও ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাকে অগ্রাহ্য করেই চাষিরা আবারও জমিতে পাটবীজ বপন করেন। দফায় দফায় বৃষ্টির বাগড়াকে উপেক্ষা করে নিবিড় মমতায় পাট ক্ষেতের পরিচর্যা করতে থাকেন। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমে দিনে দিনে সবুজে ছেয়ে যায় ক্ষেত। সবুজ পাটক্ষেতে দোল খায় কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। সোনালি আঁশ খ্যাত পাট চাষাবাদ করে লাভবান হওয়ার আশায় বুক বাঁধেন চাষিরা। কিন্তু এবারে তাদের আশার পাতে ছাই। টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানিতে তলিয়ে যায় ক্ষেত। পানি নেমে গেলেও পাটগাছে আঁশ না হতেই মরে গেছে ক্ষেতের ফসল। ভেঙ্গে গেছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। সবুজ পাটক্ষেত হয়েছে বিবর্ণ। ফসল হারানোর শোকে এখন বিমর্ষ কৃষক।
লাভ নয় পাট চাষাবাদ করে এবছর লোকসান গুনতে হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক কৃষক।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের কৃষামত প্রাণকৃঞ্চ গ্রামের কৃষক আশরাফুল আলম বলেন, এবারে বৃষ্টির কারণে ক্ষেতে বেশি ঘাস হওয়ায় অধিক ব্যয় করে ক্ষেতের পরিচর্যা করতে হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারে বেশি খরচ করেও বন্যার কারণে ফসল ঘরে তুলতে পারলাম না। ক্ষেতের পাট গাছ ক্ষেতেই মরে গেছে। পাট চাষাবাদ করে লাভবান হওয়া তো দুরের কথা এবারে সমুদয় টাকা লোকসান গুনতে হবে।

আরেক পাটচাষি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, গত বছর পাট চাষাবাদ করে লাভবান হওয়ায় আমি এবার বীজ ও সার কিনে ২ বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছি। সব মিলিয়ে পাট চাষাবাদ করতে আমার প্রায় বিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বন্যায় ক্ষেত ডুবে সব শেষ।

বড়ভিটা ইউনিয়নের পশ্চিম ধনিরাম গ্রামের নজিব হোসেন বলেন, আমি দেড় বিঘা জমিতে পাট লাগিয়েছি। চাষাবাদে আমার প্রায় চৌদ্দ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। পাটক্ষেত বানের পানিতে ডুবে পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। একই এলাকার
আজিজুল হক, বীরমুক্তিযোদ্ধা মহির উদ্দিন, সানাউল্লা মাস্টার, জোবেদ আলী, আব্দুল হক সহ কয়েকজন কৃষক বলেন, আমাদের এখানে প্রায় পঞ্চাশ বিঘা জমির পাটক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে।

পূর্ব ধনিরাম গ্রামের পাটচাষিদের জমিতে গিয়ে দেখা গেছে, পাট ক্ষেতের অপরিপক্ক পাট গাছ মরে কালো হয়ে গেছে। পাটচাষি এরশাদুল হক, মজিবর রহমান, ভূপতি ভূষণ ও জাইদুল হক বলেন, গতবছর পাটচাষ করে ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবারেও পাট চাষাবাদ করেছি। এবারে পাট কাটার আগেই ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের পরিশ্রম ও অর্থ এবারে বৃথা হয়ে গেল। এমন লোকসানে এর আগে আমরা কখনো পড়িনি। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা সরকারি সহায়তা চাই।

উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, উপজেলায় এবারে ৫৩০ হেক্টর জমিতে পাট চাষাবাদ হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ৬০ হেক্টর জমির পাটক্ষেত সহ আউশ ও শাক সবজি ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যায় উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৩ হাজার ৬’শ ৭২ জন কৃৃৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সহায়তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রনয়ণ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।

Facebook Comments Box