ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo লালমোহনে অবৈধ সিগারেট ও রোলিং পেপার জব্দ, গোডাউন মালিকদের নিয়ে প্রশ্ন Logo স্বামীর ধারালো অস্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম, হাসপাতালে স্ত্রী Logo রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা: সরকারের আকার বাড়লেই কি বাড়ে সক্ষমতা? Logo নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯ Logo সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo তজুমদ্দিনে ৪১টি চান্দিনা ভিটা বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন। Logo তেঁতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার Logo ইসকনের নামে অনুদান, জমির মালিকানা নিয়ে নতুন বিতর্ক অর্থ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ

বোরহানউদ্দিনে ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের নদীতে ঝাঁপ, ঘটনার রহস্য ঘনীভূত

তুহিন খন্দকার, ভোলা:
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩৩০

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেতুলিয়া নদীতে প্রতিবন্ধী ছেলেকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেওয়ার পর থেকে মা জেসমিন বেগম (৩৮) নিখোঁজ রয়েছেন। এমন দাবি করে গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা তেতুলিয়া নদীতে তল্লাশি চালিয়েও তার লাশ উদ্ধার করতে পারেনি।

প্রথমদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “মা সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন” শিরোনামে সংবাদ সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হলেও, ঘটনার পেছনে উঠে আসছে নানা প্রশ্ন ও রহস্য।
জেসমিনের পরিবার জানান, নিখোঁজ জেসমিন বেগমের স্বামী জসিম প্রায়ই স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিশও হয়েছে। পরবর্তীতে জসিম ঢাকায় আরেকটি বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন। এদিকে জেসমিন তার দুই প্রতিবন্ধী সন্তান তানজিল (১৭) ও তিশা (১৪)কে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। অভিযোগ রয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। প্রতিবেশীদের দাবি, ছেলে তানজিলকে প্রায়ই শিকলে বেঁধে রাখা হতো। প্রশ্ন উঠছে ঘটনার দিন প্রতিবন্ধী তানজিলকে শিকল থেকে মুক্ত করলো কে?
স্থানীয় জয়নাল আবদীন জানান, নদীতে পড়ে যাওয়া তানজিলকে তিনি উদ্ধার করেছেন, তবে ঘটনাস্থলে জেসমিনকে দেখেননি। স্থানীয় অনেকে বলছে নদীতে ডুবে মারা গেলে ২৪ ঘন্টার ভিতরে লাশ ভেসে উঠার কথা কিন্তু তিন দিনেও লাশ না পাওয়ায় এলাকাজুড়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।

নিখোঁজ জেসমিনের পরিবার দাবি করছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। জেসমিন সাঁতার জানার পর কিভাবে পানিতে তলিয়ে যায়? বরং তার প্রতিবন্ধী ছেলে সাঁতার জানে না কিন্তু সে বেঁচে যায়। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা।
তাদের দাবি, নিখোঁজ জেসমিনের স্বামী জসিমের পরিবার তাকে হত্যা করে গুম করেছে এবং পুরো ঘটনাটিকে আড়াল করতে প্রতিবন্ধী ছেলে তানজিলকে নদী থেকে উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে দিয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

ওই ঘটনায় নিখোঁজ জেসমিনের স্বামী জসিম জানান, সে ঢাকায় ছিল তার ছোট ভাই তাকে ফোনে জানিয়েছে তার স্ত্রী তানজিল নদীতে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনা জানার পর থেকে নৌ পুলিশ নদীতে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছে। গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করা হবে।

ঘটনাটি এখন পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হলে রহস্যের জট খুলবে এবং পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ২৯৮ বার পড়া হয়েছে
Logo
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

বোরহানউদ্দিনে ছেলেকে বাঁচাতে মায়ের নদীতে ঝাঁপ, ঘটনার রহস্য ঘনীভূত

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:০৭ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
৩৩০

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেতুলিয়া নদীতে প্রতিবন্ধী ছেলেকে বাঁচাতে ঝাঁপ দেওয়ার পর থেকে মা জেসমিন বেগম (৩৮) নিখোঁজ রয়েছেন। এমন দাবি করে গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা তেতুলিয়া নদীতে তল্লাশি চালিয়েও তার লাশ উদ্ধার করতে পারেনি।

প্রথমদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “মা সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন” শিরোনামে সংবাদ সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হলেও, ঘটনার পেছনে উঠে আসছে নানা প্রশ্ন ও রহস্য।
জেসমিনের পরিবার জানান, নিখোঁজ জেসমিন বেগমের স্বামী জসিম প্রায়ই স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় সালিশও হয়েছে। পরবর্তীতে জসিম ঢাকায় আরেকটি বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন। এদিকে জেসমিন তার দুই প্রতিবন্ধী সন্তান তানজিল (১৭) ও তিশা (১৪)কে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। অভিযোগ রয়েছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। প্রতিবেশীদের দাবি, ছেলে তানজিলকে প্রায়ই শিকলে বেঁধে রাখা হতো। প্রশ্ন উঠছে ঘটনার দিন প্রতিবন্ধী তানজিলকে শিকল থেকে মুক্ত করলো কে?
স্থানীয় জয়নাল আবদীন জানান, নদীতে পড়ে যাওয়া তানজিলকে তিনি উদ্ধার করেছেন, তবে ঘটনাস্থলে জেসমিনকে দেখেননি। স্থানীয় অনেকে বলছে নদীতে ডুবে মারা গেলে ২৪ ঘন্টার ভিতরে লাশ ভেসে উঠার কথা কিন্তু তিন দিনেও লাশ না পাওয়ায় এলাকাজুড়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।

নিখোঁজ জেসমিনের পরিবার দাবি করছে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। জেসমিন সাঁতার জানার পর কিভাবে পানিতে তলিয়ে যায়? বরং তার প্রতিবন্ধী ছেলে সাঁতার জানে না কিন্তু সে বেঁচে যায়। এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা।
তাদের দাবি, নিখোঁজ জেসমিনের স্বামী জসিমের পরিবার তাকে হত্যা করে গুম করেছে এবং পুরো ঘটনাটিকে আড়াল করতে প্রতিবন্ধী ছেলে তানজিলকে নদী থেকে উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে দিয়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

ওই ঘটনায় নিখোঁজ জেসমিনের স্বামী জসিম জানান, সে ঢাকায় ছিল তার ছোট ভাই তাকে ফোনে জানিয়েছে তার স্ত্রী তানজিল নদীতে পড়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে, বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ঘটনা জানার পর থেকে নৌ পুলিশ নদীতে নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছে। গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিয়ে ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করা হবে।

ঘটনাটি এখন পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হলে রহস্যের জট খুলবে এবং পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।

Facebook Comments Box