রাতের আঁধারে সাংবাদিকের কৃষিজমিতে পুকুর খনন করে দখলের চেষ্টা
লালমোহন ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার লালমোহন উপজেলার মো. রুহুল আমিন নামে এক সাংবাদিকের জমিতে রাতের আঁধারে ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনি সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। সাংবাদিক মো. রুহুল আমিন জাতীয় দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার লালমোহন উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। এছাড়া তিনি সুনামধন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ।
সাংবাদিক মো. রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের চর কোড়ালমারা মৌজার এসএ ১৫৬ নম্বর খতিয়ানে মোট ২ একর ৮৪ শতাংশ জমি আমি এবং আমার বাবা মিলে ক্রয় করি। এরপর আমার বাবা মারা যাওয়ার পর অন্যান্য ওয়ারিশরাসহ শান্তিপূর্ণভাবে আমি ওই জমি ভোগ দখল করে আসছি। তবে হঠাৎ করে তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কোড়ালমারা এলাকার মো. কুট্টি মিয়া, কামাল, লিটন, সবুজ, শরিফ ওই জমি তাদের দাবি করে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন।
তিনি আরো বলেন, আমি ব্যক্তিগত কাজে গত বেশ কয়েকদিন ধরে ঢাকায় রয়েছি। এই সুযোগে কুট্টি গংরা শনিবার রাতের আঁধারে আমার জমিতে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন, ভিটা এবং দোকানঘর স্থাপনের মাধ্যমে ওই জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে রাতেই আমি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিয়ে বিষয়টি জানালে তজুমদ্দিন থানা থেকে ওই এলাকার চৌকিদার, দফাদার ও মেম্বারকে দিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলা হয়। তবে তারা কাজ বন্ধ করেননি। এরপর রোববার সকালে আমার এক ছোট ভাইসহ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজনকে ওই এলাকায় পাঠাই। এরপর এ ঘটনায় আমার ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে তজুমদ্দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। এছাড়া ওই জমি নিয়ে ভোলা আদালতে আমি নিজেই একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছি। বর্তমানে ওই মামলাটি চলমান। এরইমধ্যে কুট্টি গংদের এমন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রশাসনের কাছে আমি সুষ্ঠু বিচার কামনা করছি।
এ অভিযোগের ব্যাপারে মো. কুট্টি মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার জমি আমি দখল করেছি। তবে নিজের জমি হলে রাতের আঁধারে কেনো ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুকুর খনন, বসতভিটা ও দোকানঘর স্থাপন করেছেন, তাকে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এর কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার এসআই মো. সায়েদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। একইসঙ্গে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে কাগজপত্র দেখে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হবে বলে তাদের জানিয়ে এসেছি।




















