ঢাকা ০৮:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo সৎ সাহস থাকলে পালিয়ে নয়, আদালতে আসুন: ডা. জাহিদ Logo সাইবার বুলিং ঠেকাতে কার্যকর নীতি চায় আইআরআই, আইন সংশোধনে মতামত নিচ্ছে সরকার Logo মনপুরায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত Logo “মনপুরায় দ্রুত জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও কলাতলীতে বেড়ীবাঁধ নির্মানের আশ্বাস -কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারন সম্পাদক ও এমপি নয়ন Logo কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগ Logo ১০ টাকার সিম নিতে গিয়ে তথ্যের ঝুঁকিতে শত শত গ্রাহক, পঞ্চগড়ে আটক ৩ Logo কুমারখালীতে ফসলি জমি হুমকিতে: পদ্মা নদীর কোল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন Logo প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়তে Ovipray-এর নতুন উদ্যোগ, অনুষ্ঠিত Robotics ও AI কর্মশালা Logo কালিয়াকৈরে বজ্রপাতের পর নৌকা থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু Logo মনপুরায় ১ ইলিশের দাম ১৫ হাজার টাকা।

লালমোহনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বিডিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ! আহত-৩০

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৫১৩

ভোলার লালমোহনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বিডিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জামায়াত সমর্থিত বিডিপি সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফকালে বলেন, শুক্রবার সকাল ১১ টায় রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীরা গণভোট ও সাংগঠনিক কাজে ইউনুছ পাটওয়ারী বাড়িতে যান। তখন ওখানকার নুরনবীর ছেলে রুবেল (২৮) ওই নারী কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং নারী কর্মীদের হেনস্থা করেন। তখন একজন নারী কর্মী তার স্বামী রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিনকে এ ঘটনা জানান। জসিম উদ্দিন ঘটনা শুনে মুঠোফোনে রুবেলকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মুঠোফোনে রুবেল খুব খারাপ ভাষায় গালাগালি করে। এরপর রুবেল জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে তার সাথে হাতাহাতি ও আক্রমন করে। এ ঘটনা শুনে তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। কিন্তু এরমধ্যেই বিএনপির আরো নেতাকর্মীরা বাজরে সংঘবদ্ধ হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হানিফ হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হন। তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে আরো আক্রোমনাত্নক হয়ে উঠেন। আমি ঘটনা শুনে আমাদের নেতাকর্মীদের সেখান থেকে চলে আসতে বলি। আমাদের নেতাকর্মীরা বাজার থেকে চলে আসতে শুরু করলে পিছন থেকে হঠাৎ তারা আমাদের কর্মীদের উপর আক্রমন করে। এক পর্যায়ে দু‘পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় তারা আমাদের আনুমানিক ১৫ জন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তারা এখন লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উক্ত ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তিনি।

এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি নামে তারা জামায়াতের সহায়তায় মহিলা লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে লালমোহনের স্বভাবিক পরিস্থিতিকে খারাপ করার লক্ষ্যে দুপুরের দিকে মহিলা লীগের নেত্রীদের দিয়ে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালায়। আমাদের পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কেউ কোন মাথা ঘামায়নি। পরে মাগরিববাদ লালমোহন থেকে আওয়ামী ও জামায়াতের ক্যাডার নিয়ে আমাদের যুবদলের সভাপতি জসিম ও তার ভাই আলমগীর, রুহুল আমি, নুরনবীসহ ১২-১৫ জনকে অতর্কিত আক্রমন করে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তারা লালমোহনের পরিস্থিতিকে অবনতি করতে চাচ্ছে যাতে নির্বাচন বানচাল হয়। এ ঘটনার জন্য দায়ী আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও জামায়াতের ক্যাডারদের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি এবং একই সাথে উক্ত নিন্দনীয় ঘটনার তীব্রনিন্দা জানাচ্ছি।

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের দাওয়াতী কাজের ব্যগাত নিয়ে উত্তেজনা তৈরী হয়। এরপর আমরা জানার পর ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে ঘটনাটি মিমাংশা করে দেয়া হয়। কিন্তু সন্ধার পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা রায়চাঁদ বাজারে মোটরসাইকেল মহড়া দেয়। এরপরই বিএনপির নেতাকর্মীরাও একত্রিত হয়। রায়চাঁদ বাজারে রাস্তার কাজে ব্যবহ্রত ইট দিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। আমার জানমতে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন ভর্তি হয় এদের মধ্যে ২জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে। রায়চাঁদ বাজারের আজকের ঘটনার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এখন পর্যন্ত (রাত ১১.০০) আমার ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে রয়েছি।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:৫৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬ ৩২৫ বার পড়া হয়েছে
Logo
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

লালমোহনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বিডিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ! আহত-৩০

আপডেট সময় : ১১:৫১:৫৯ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
৫১৩

ভোলার লালমোহনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বিডিপি নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
জামায়াত সমর্থিত বিডিপি সংসদ সদস্য প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম শুক্রবার রাতে সাংবাদিকদের সাথে ব্রিফকালে বলেন, শুক্রবার সকাল ১১ টায় রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে জামায়াতের নারী কর্মীরা গণভোট ও সাংগঠনিক কাজে ইউনুছ পাটওয়ারী বাড়িতে যান। তখন ওখানকার নুরনবীর ছেলে রুবেল (২৮) ওই নারী কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং নারী কর্মীদের হেনস্থা করেন। তখন একজন নারী কর্মী তার স্বামী রায়চাঁদ বাজারের ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিনকে এ ঘটনা জানান। জসিম উদ্দিন ঘটনা শুনে মুঠোফোনে রুবেলকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে মুঠোফোনে রুবেল খুব খারাপ ভাষায় গালাগালি করে। এরপর রুবেল জসিম উদ্দিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এসে তার সাথে হাতাহাতি ও আক্রমন করে। এ ঘটনা শুনে তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানান। কিন্তু এরমধ্যেই বিএনপির আরো নেতাকর্মীরা বাজরে সংঘবদ্ধ হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হানিফ হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হন। তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে আরো আক্রোমনাত্নক হয়ে উঠেন। আমি ঘটনা শুনে আমাদের নেতাকর্মীদের সেখান থেকে চলে আসতে বলি। আমাদের নেতাকর্মীরা বাজার থেকে চলে আসতে শুরু করলে পিছন থেকে হঠাৎ তারা আমাদের কর্মীদের উপর আক্রমন করে। এক পর্যায়ে দু‘পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় তারা আমাদের আনুমানিক ১৫ জন নেতাকর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। তারা এখন লালমোহন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। উক্ত ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তিনি।

এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল বলেন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি নামে তারা জামায়াতের সহায়তায় মহিলা লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে লালমোহনের স্বভাবিক পরিস্থিতিকে খারাপ করার লক্ষ্যে দুপুরের দিকে মহিলা লীগের নেত্রীদের দিয়ে বিভিন্ন অপতৎপরতা চালায়। আমাদের পর্যায় থেকে এ বিষয়ে কেউ কোন মাথা ঘামায়নি। পরে মাগরিববাদ লালমোহন থেকে আওয়ামী ও জামায়াতের ক্যাডার নিয়ে আমাদের যুবদলের সভাপতি জসিম ও তার ভাই আলমগীর, রুহুল আমি, নুরনবীসহ ১২-১৫ জনকে অতর্কিত আক্রমন করে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ও ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। তারা লালমোহনের পরিস্থিতিকে অবনতি করতে চাচ্ছে যাতে নির্বাচন বানচাল হয়। এ ঘটনার জন্য দায়ী আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও জামায়াতের ক্যাডারদের উপযুক্ত শাস্তি দাবী করছি এবং একই সাথে উক্ত নিন্দনীয় ঘটনার তীব্রনিন্দা জানাচ্ছি।

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, জুমার নামাজের আগে জামায়াতের মহিলা কর্মীদের দাওয়াতী কাজের ব্যগাত নিয়ে উত্তেজনা তৈরী হয়। এরপর আমরা জানার পর ফোর্স ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে ঘটনাটি মিমাংশা করে দেয়া হয়। কিন্তু সন্ধার পর জামায়াতের নেতাকর্মীরা রায়চাঁদ বাজারে মোটরসাইকেল মহড়া দেয়। এরপরই বিএনপির নেতাকর্মীরাও একত্রিত হয়। রায়চাঁদ বাজারে রাস্তার কাজে ব্যবহ্রত ইট দিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। আমার জানমতে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন ভর্তি হয় এদের মধ্যে ২জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে। রায়চাঁদ বাজারের আজকের ঘটনার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এখন পর্যন্ত (রাত ১১.০০) আমার ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে রয়েছি।

Facebook Comments Box