রাজবাড়ীর ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর, গোয়ালন্দ মোড়, পদ্মার মোড় ও দৌলতদিয়া বাইপাস এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় যাত্রী ও পরিবহন চালকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। বিশেষ করে রাতের বেলায় এ মহাসড়কে চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে অভিযোগ ছিল।
তবে হাইওয়ে পুলিশের দাবি, আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মহাসড়কের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট পরিচালনা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদারের ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কে অবৈধ তিন চাকার যানবাহন—থ্রি-হুইলার, নসিমন ও করিমনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া চালক এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব অভিযানের ফলে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে, দৌলতদিয়ার ৩ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৃথক বাস দুর্ঘটনার সময় উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসি মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন সমালোচনামূলক পোস্টের বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে পুলিশ এ ধরনের অপপ্রচারের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ বলেন, “মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হাইওয়ে পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। অপরাধ দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও আমাদের অভিযান, টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।”
মন্তব্য করুন