সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের কঠিন লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে সেমি-ফাইনালে তুলে দেওয়ার অন্যতম নায়ক হুলিয়ান আলভারেজ। তার দুর্দান্ত গোল শুধু দলকে পরের ধাপে পৌঁছে দেয়নি, ছুঁয়ে ফেলেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার একটি কীর্তিও।
ম্যাচের শেষ দিকে যখন টাইব্রেকারের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল, তখন ২৬ বছর বয়সী আলভারেজের অসাধারণ এক শট বদলে দেয় পুরো পরিস্থিতি। ডান পায়ের জোরালো শটে প্রায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে বল পাঠান সুইজারল্যান্ডের জালের কোণায়। সেই গোলেই সেমি-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের জন্য এবারের বিশ্বকাপ বিশেষ হয়ে উঠেছে। দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপে এটি তার পঞ্চম গোল। এর মধ্যে চারটিই এসেছে নকআউট পর্বে। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে চার গোল করে তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের মহানায়ক দিয়েগো ম্যারাডোনাকে। তবে এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন লিওনেল মেসি, তার নকআউট পর্বে গোলসংখ্যা সাত।
সুইজারল্যান্ডের রক্ষণভাগ ভাঙা সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন আলভারেজ। তিনি বলেন,‘ওরা ডিফেন্সে অনেক খেলোয়াড় রেখে জায়গা বন্ধ করে দিয়েছিল। বক্সের আশপাশে এসে শট নেওয়ার সুযোগ পাওয়া কঠিন হচ্ছিল। এর আগে আমি একই ধরনের একটি শট নিয়েছিলাম, তবে সেটি লক্ষ্যে ছিল না।’
নিজের গোলের মুহূর্ত ব্যাখ্যা করে আলবারেস বলেন,‘ওরা হয়তো ভাবেনি আমি শট নেব। তারা আমার সতীর্থদের আটকানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছিল। আমি একটু জায়গা পেয়েছিলাম এবং শট নেওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়েছি। এটা দারুণ অনুভূতি। সবচেয়ে ভালো লাগছে, এই গোল আমাদের বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।’
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে এমন আরও গোল করতে চান বলেও জানিয়েছেন তিনি। আলভারেজ বলেন, দেশের হয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে অবদান রাখতে চান তিনি।
এর আগে আলভারেজের ক্লাব ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। বার্সেলোনায় যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও গুঞ্জন ছিল। তবে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি বিশ্বাস করেন, জাতীয় দলের খেলায় কোনো ফুটবলারের মনোযোগে ঘাটতি নেই।
স্কালোনি বলেন,‘আমি বিশ্বাস করি না, এখানে কেউ দেশের খেলা বাদ দিয়ে অন্য কিছু নিয়ে ভাবছে। যদি এমন হতো, তাহলে আমরা এই ফলাফল পেতাম না।’
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন