ঢাকা ০৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo সাইবার বুলিং ঠেকাতে কার্যকর নীতি চায় আইআরআই, আইন সংশোধনে মতামত নিচ্ছে সরকার Logo মনপুরায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত Logo “মনপুরায় দ্রুত জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও কলাতলীতে বেড়ীবাঁধ নির্মানের আশ্বাস -কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারন সম্পাদক ও এমপি নয়ন Logo কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগ Logo ১০ টাকার সিম নিতে গিয়ে তথ্যের ঝুঁকিতে শত শত গ্রাহক, পঞ্চগড়ে আটক ৩ Logo কুমারখালীতে ফসলি জমি হুমকিতে: পদ্মা নদীর কোল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন Logo প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়তে Ovipray-এর নতুন উদ্যোগ, অনুষ্ঠিত Robotics ও AI কর্মশালা Logo কালিয়াকৈরে বজ্রপাতের পর নৌকা থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু Logo মনপুরায় ১ ইলিশের দাম ১৫ হাজার টাকা। Logo রূপগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ

লালমোহন মমিন নেছা বালিকা মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে টিউশন ফি আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩০৯

ভোলার লালমোহন মমিন নেছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আবু বকর ছিদ্দিক’র বিরুদ্ধে টিউশন ফি ও বৃক্ষ রোপন না করে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহা- পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, অত্র মাদ্রাসার শিক্ষকদের একাংশ।
গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদ্রাসা ছুটির পরে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো: জহির উদ্দিন,মাদ্রাসার শিক্ষকদের একাংশের পক্ষে স্বাক্ষর দিয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মমিন নেছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারী শিক্ষক ও কর্মচারীগণ ২০০২ সাল থেকে স্ব-স্ব পদে কর্মরত আছি। আমাদের মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আবু বকর ছিদ্দিক উপবৃত্তির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত সরকারের দেওয়া টিউশন ফির টাকা ও প্রতি বছর বৃক্ষরোপন কর্মসুচির জন্য প্রদত্ত টাকাগুলো আত্মসাৎ করে আসছে।
শিক্ষকরা টিউশন ফি ও মাদ্রাসার অভ্যন্তরীন আয়ের টাকার সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারের নিকট জানতে চাইলে,সুপার আবু বকর ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন এবং বেতন বন্ধ করে দিবে বলে নানা রকম হুমকি ধামকি ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে নিজেই ওই টাকা একক ভোগ করেন।
এছাড়াও অত্র প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে ইংরেজি বিষয়ে আমিনুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে বিল করা পর্যন্ত কিছু দিন প্রতিষ্ঠানে থাকলেও, পরবর্তীতে তার নিজ এলাকায় চলে যায়। সেই থেকে আর কখনোই সে মাদ্রাসায় আসেনি। শিক্ষক মো: আমিনুল ইসলাম মাদ্রাসার সুপার আবু বকর এর সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে বেতন তোলে তার বেতনের একটি অংশ সুপার ভোগ করেন বলে সূত্র জানায়।
ইংরেজি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম মাদ্রাসায় না আসলেও তার বেতন উত্তলন করে সুপার ব্যাক্তিগত ভাবে লাভবান হলেও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীগণ ইংরেজী বিষয়েরমত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এবিষয়ে ইংরেজী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়।
অভিযুক্ত মাদ্রাসার সুপার মাও: আবু বকর নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তবে শিক্ষকরা যখন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে, আমাকে ফোন না দিয়ে আমার সাথে দেখা করতেন। এছাড়াও ইংরেজি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম এর সম্পর্কে বলেন, মে মাস থেকে তার বেতন বন্ধ করা হয়েছে।
লালমোহন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, আমি লালমোহনে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। এই ধরনের কোন অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সিফাত বিন সাদেক এবিষয়ে বলেন, গত বৃহস্পতিবার এই ধরনের একটি অভিযোগ অফিস শেষ সময়ে পেয়েছি। আজকে জেলায় মিটিং ছিলো। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গাছ না লাগিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন সুপার। এছাড়াও সম্প্রতি ব্যাংক থেকে টিউশন ফি এর ৮১ হাজার দুই শত টাকা উত্তলন করে আত্মসাৎ করেন সুপার আবু বকর।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:২৭:২২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ২১৩ বার পড়া হয়েছে
Logo
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

লালমোহন মমিন নেছা বালিকা মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে টিউশন ফি আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৮:২৭:২২ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
৩০৯

ভোলার লালমোহন মমিন নেছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আবু বকর ছিদ্দিক’র বিরুদ্ধে টিউশন ফি ও বৃক্ষ রোপন না করে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহা- পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, অত্র মাদ্রাসার শিক্ষকদের একাংশ।
গত ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদ্রাসা ছুটির পরে প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো: জহির উদ্দিন,মাদ্রাসার শিক্ষকদের একাংশের পক্ষে স্বাক্ষর দিয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মমিন নেছা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারী শিক্ষক ও কর্মচারীগণ ২০০২ সাল থেকে স্ব-স্ব পদে কর্মরত আছি। আমাদের মাদ্রাসার সুপার মাওঃ আবু বকর ছিদ্দিক উপবৃত্তির কার্যক্রম শুরুর পর থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত সরকারের দেওয়া টিউশন ফির টাকা ও প্রতি বছর বৃক্ষরোপন কর্মসুচির জন্য প্রদত্ত টাকাগুলো আত্মসাৎ করে আসছে।
শিক্ষকরা টিউশন ফি ও মাদ্রাসার অভ্যন্তরীন আয়ের টাকার সংক্রান্ত বিষয়ে সুপারের নিকট জানতে চাইলে,সুপার আবু বকর ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন এবং বেতন বন্ধ করে দিবে বলে নানা রকম হুমকি ধামকি ও শাস্তির ভয় দেখিয়ে নিজেই ওই টাকা একক ভোগ করেন।
এছাড়াও অত্র প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে ইংরেজি বিষয়ে আমিনুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে বিল করা পর্যন্ত কিছু দিন প্রতিষ্ঠানে থাকলেও, পরবর্তীতে তার নিজ এলাকায় চলে যায়। সেই থেকে আর কখনোই সে মাদ্রাসায় আসেনি। শিক্ষক মো: আমিনুল ইসলাম মাদ্রাসার সুপার আবু বকর এর সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করে বেতন তোলে তার বেতনের একটি অংশ সুপার ভোগ করেন বলে সূত্র জানায়।
ইংরেজি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম মাদ্রাসায় না আসলেও তার বেতন উত্তলন করে সুপার ব্যাক্তিগত ভাবে লাভবান হলেও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্র/ছাত্রীগণ ইংরেজী বিষয়েরমত একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এবিষয়ে ইংরেজী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম এর ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক নয়।
অভিযুক্ত মাদ্রাসার সুপার মাও: আবু বকর নিকট অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান,আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তবে শিক্ষকরা যখন আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে, আমাকে ফোন না দিয়ে আমার সাথে দেখা করতেন। এছাড়াও ইংরেজি শিক্ষক আমিনুল ইসলাম এর সম্পর্কে বলেন, মে মাস থেকে তার বেতন বন্ধ করা হয়েছে।
লালমোহন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর একেএম আবুল খায়ের বলেন, আমি লালমোহনে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। এই ধরনের কোন অভিযোগ সম্পর্কে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সিফাত বিন সাদেক এবিষয়ে বলেন, গত বৃহস্পতিবার এই ধরনের একটি অভিযোগ অফিস শেষ সময়ে পেয়েছি। আজকে জেলায় মিটিং ছিলো। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বৃক্ষরোপণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। গাছ না লাগিয়ে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন সুপার। এছাড়াও সম্প্রতি ব্যাংক থেকে টিউশন ফি এর ৮১ হাজার দুই শত টাকা উত্তলন করে আত্মসাৎ করেন সুপার আবু বকর।

Facebook Comments Box