পঞ্চগড়ে একই দিনে পৃথক দুই ঘটনায় সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন দুই ব্যক্তি। তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় স্বজনরা সঙ্গে নিয়ে যান তাকে কামড় দেওয়া মৃত সাপটিও। সাপটি দেখে চিকিৎসকরা সেটিকে বিষধর বলে শনাক্ত করেন এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত এন্টিভেনাম প্রয়োগ করেন।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, আটোয়ারী উপজেলার চুচুলী বটতলী এলাকার ইউনুস আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৬) এবং বোদা উপজেলার ময়দানদিঘি ইউনিয়নের সরকারপাড়া এলাকার আজিজার রহমানের ছেলে উমর ফারুক (২০)।
পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে নিজ বাড়ির খড়ির ঘরে কাজ করার সময় নজরুল ইসলামকে একটি সাপ কামড় দেয়। পরে স্বজনরা সাপটিকে মেরে সেটি সঙ্গে নিয়েই বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা সাপটি দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে কোবরা প্রজাতির বিষধর সাপ বলে শনাক্ত করেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর নজরুল ইসলামকে তাৎক্ষণিক এন্টিভেনাম দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।
একই দিন দুপুরে বোদা উপজেলার একটি পাটক্ষেতে পাট কাটার সময় সাপের কামড়ে আহত হন উমর ফারুক। পরে তাকে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
নজরুল ইসলামের বাবা ইউনুস আলী বলেন, “আমার ছেলে খড়ির ঘরে কাজ করার সময় হঠাৎ একটি সাপ পায়ে কামড় দেয়। পরে আমরা সাপটিকে মেরে হাসপাতালে নিয়ে আসি। ডাক্তাররা সাপটি দেখে দ্রুত ইনজেকশন (এন্টিভেনাম) দেন। এখন সে ভালো আছে।”
বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফুল কবীর বলেন, “শনিবার সাপে কাটা দুইজন রোগী হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলামকে বিষধর সাপ কামড় দেওয়ায় তাকে দ্রুত এন্টিভেনাম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন। অপর রোগী উমর ফারুককে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে। ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন