ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা: সরকারের আকার বাড়লেই কি বাড়ে সক্ষমতা? Logo নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯ Logo সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo তজুমদ্দিনে ৪১টি চান্দিনা ভিটা বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন। Logo তেঁতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার Logo ইসকনের নামে অনুদান, জমির মালিকানা নিয়ে নতুন বিতর্ক অর্থ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ Logo দক্ষিণ আইচা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নির্বাচন: সভাপতি ফরিদ, সম্পাদক সাইফুল Logo রূপগঞ্জে জামদানি শাড়ির নকশা বৈচিত্র ও রং বিন্যাস বিষয়ক কর্মশালা Logo স্থানীয় সরকারে ড. মঈন খান: সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো

ইসকনের নামে অনুদান, জমির মালিকানা নিয়ে নতুন বিতর্ক অর্থ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৬২

খোকসায় ইসকন মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের থেকে টাকা তুলে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে সনাতন শংকর দাস (শুভ) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা ইসকন কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ প্রকাশে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

১৮ই আগস্ট খোকসা ইসকন মন্দিরের উদ্যোক্তা ও আমেরিকা প্রবাসী নিধি গৌর দাস তাঁর ফেসবুক আইডি (“Nidhi Das”) থেকে জানান, মন্দির নির্মাণের কথা বলে ৬০ লাখ টাকার তথ্য দিয়ে অনুদান তোলা হয়। কিন্তু কোনো নিয়ম না মেনে মোট ১০ শতাংশের বেশি জমির মধ্যে ২.২ শতাংশ জমি ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘ’ নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, যেখানে শুভ নিজেই স্বাক্ষর করে পরিচালকের পদ দাবি করছেন। বাকি প্রায় ৮ শতাংশ জমি শুভর দুই সহযোগী ড. হরগোবিন্দ এবং শংকপানির নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় ইসকনের অনুমোদন কিংবা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়া এই জমি কেনা হয়েছে। ফলে আইনগতভাবে এ জমির সাথে ইসকনের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি ইতিমধ্যে ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

এ বিষয়ে শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের কোষাধ্যক্ষ সংকপানী দাস এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, জেলা কমিটির সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী সবকিছুই জানেন এবং তাঁর অনুমতিতেই তাঁরা এসব কাজ করেছেন। তবে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “আমি কোনো অনুমতি দেওয়ার মালিক নই। সব বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার কেবল ঢাকা ইসকন হেড অফিসের। আপনারা তাদের কাছে জানতে চান যে হেড অফিসের কোনো লিখিত অনুমতিপত্র তাদের কাছে আছে কিনা।” পরবর্তীতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নামহট্ট সংঘের কোষাধ্যক্ষের কাছে সেই লিখিত অনুমতিপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ইসকন কুষ্টিয়া মন্দিরের সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী ঘটনাটিকে সরাসরি ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইস্কনে ‘পরিচালক’ বলে কোনো পদ নেই। শুভ নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজস্ব রশিদ ছাপিয়ে টাকা তুলেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি বা আমাকে না জানিয়ে গোপনে শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের নামে জমিটি কেনা হয়, যেখানে ইসকনের নামও রাখা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুভ আমার সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন।”

অভিযোগের বিষয়ে সনাতন শংকর দাস (শুভ)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতাল মোড়ে সাংবাদিকদের সামনে এলেও কাজের বাহানা দিয়ে দ্রুত সটে পড়েন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। উল্টো স্থানীয় কিছু মাধ্যম ব্যবহার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

ধর্মীয় বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অনুদানের অর্থ ও জমি নিয়ে এমন অনিয়মের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করছেন স্থানীয় সাধারণ ভক্তরা।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৫:৪২:২৬ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
Logo
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

ইসকনের নামে অনুদান, জমির মালিকানা নিয়ে নতুন বিতর্ক অর্থ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:৪২:২৬ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
৬২

খোকসায় ইসকন মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের থেকে টাকা তুলে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে সনাতন শংকর দাস (শুভ) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে প্রবাসী উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা ইসকন কর্তৃপক্ষের ক্ষোভ প্রকাশে নতুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

১৮ই আগস্ট খোকসা ইসকন মন্দিরের উদ্যোক্তা ও আমেরিকা প্রবাসী নিধি গৌর দাস তাঁর ফেসবুক আইডি (“Nidhi Das”) থেকে জানান, মন্দির নির্মাণের কথা বলে ৬০ লাখ টাকার তথ্য দিয়ে অনুদান তোলা হয়। কিন্তু কোনো নিয়ম না মেনে মোট ১০ শতাংশের বেশি জমির মধ্যে ২.২ শতাংশ জমি ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘ’ নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে, যেখানে শুভ নিজেই স্বাক্ষর করে পরিচালকের পদ দাবি করছেন। বাকি প্রায় ৮ শতাংশ জমি শুভর দুই সহযোগী ড. হরগোবিন্দ এবং শংকপানির নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, কেন্দ্রীয় ইসকনের অনুমোদন কিংবা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়া এই জমি কেনা হয়েছে। ফলে আইনগতভাবে এ জমির সাথে ইসকনের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি ইতিমধ্যে ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

এ বিষয়ে শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের কোষাধ্যক্ষ সংকপানী দাস এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, জেলা কমিটির সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী সবকিছুই জানেন এবং তাঁর অনুমতিতেই তাঁরা এসব কাজ করেছেন। তবে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “আমি কোনো অনুমতি দেওয়ার মালিক নই। সব বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার কেবল ঢাকা ইসকন হেড অফিসের। আপনারা তাদের কাছে জানতে চান যে হেড অফিসের কোনো লিখিত অনুমতিপত্র তাদের কাছে আছে কিনা।” পরবর্তীতে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে নামহট্ট সংঘের কোষাধ্যক্ষের কাছে সেই লিখিত অনুমতিপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ইসকন কুষ্টিয়া মন্দিরের সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী ঘটনাটিকে সরাসরি ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইস্কনে ‘পরিচালক’ বলে কোনো পদ নেই। শুভ নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিজস্ব রশিদ ছাপিয়ে টাকা তুলেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি বা আমাকে না জানিয়ে গোপনে শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের নামে জমিটি কেনা হয়, যেখানে ইসকনের নামও রাখা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শুভ আমার সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন।”

অভিযোগের বিষয়ে সনাতন শংকর দাস (শুভ)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতাল মোড়ে সাংবাদিকদের সামনে এলেও কাজের বাহানা দিয়ে দ্রুত সটে পড়েন। পরবর্তীতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। উল্টো স্থানীয় কিছু মাধ্যম ব্যবহার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

ধর্মীয় বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে অনুদানের অর্থ ও জমি নিয়ে এমন অনিয়মের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করছেন স্থানীয় সাধারণ ভক্তরা।

Facebook Comments Box