ঢাকা ০৫:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগ Logo ১০ টাকার সিম নিতে গিয়ে তথ্যের ঝুঁকিতে শত শত গ্রাহক, পঞ্চগড়ে আটক ৩ Logo কুমারখালীতে ফসলি জমি হুমকিতে: পদ্মা নদীর কোল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন Logo প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়তে Ovipray-এর নতুন উদ্যোগ, অনুষ্ঠিত Robotics ও AI কর্মশালা Logo কালিয়াকৈরে বজ্রপাতের পর নৌকা থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু Logo মনপুরায় ১ ইলিশের দাম ১৫ হাজার টাকা। Logo রূপগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ Logo পঞ্চগড়ে পরকীয়ার অভিযোগে স্বামীকে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ, স্ত্রী আটক Logo সাতক্ষীরায় ৫৬ বোতল কোরেক্সসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) Logo হাতিয়াতে ধান খেতে কীটনাশক স্প্রের বিষাক্ত বাষ্পে শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী

১০ টাকার সিম নিতে গিয়ে তথ্যের ঝুঁকিতে শত শত গ্রাহক, পঞ্চগড়ে আটক ৩

মোঃ আশরাফুল ইসলাম।
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১৫

মাত্র ১০ টাকায় সিম বিক্রির কথা বলে গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের পর তাদের অজান্তে নগদ অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকায় তিনজনকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইউনিয়নের বন্দরপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের আবু নাইয়ান নাহিদ, পঞ্চগড়ের জালাসী এলাকার রবিউল ইসলাম ও বাবু।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের বন্দরপাড়া ও আশপাশের এলাকায় মাত্র ১০ টাকায় রবি ও এয়ারটেল সিম বিক্রি করছিলেন ওই তিন ব্যক্তি। সিম দেওয়ার সময় গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি ফিঙ্গারপ্রিন্টও সংগ্রহ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সিম নেওয়ার পর তারা জানতে পারেন, তাদের অজান্তেই নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। কয়েকজনের আগে থেকে থাকা নগদ অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, গত তিন দিনে প্রায় চার থেকে পাঁচ শত মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয় কয়েকজন তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন।

তারা পুনরায় সিম কেনার কথা বলে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের পঞ্চগড়ের বলেয়াপাড়া এলাকায় অবস্থানের কথা জানান। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে তাদের আটক করে বন্দরপাড়া এলাকায় নিয়ে আসেন।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, ১০ টাকায় সিম দেওয়ার সময় তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়েছিল। পরে নগদ অ্যাকাউন্ট নিয়ে সমস্যার কথা জানতে পারেন তারা। তবে কোন সিমের মাধ্যমে বা কীভাবে তাদের তথ্য ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু করে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থলে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের অজান্তে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল কি না এবং অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, এসব বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৯:০৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
Logo
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

১০ টাকার সিম নিতে গিয়ে তথ্যের ঝুঁকিতে শত শত গ্রাহক, পঞ্চগড়ে আটক ৩

আপডেট সময় : ১২:৩৯:০৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৫

মাত্র ১০ টাকায় সিম বিক্রির কথা বলে গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের পর তাদের অজান্তে নগদ অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকায় তিনজনকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ইউনিয়নের বন্দরপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আটক ব্যক্তিরা হলেন ঠাকুরগাঁওয়ের আবু নাইয়ান নাহিদ, পঞ্চগড়ের জালাসী এলাকার রবিউল ইসলাম ও বাবু।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত তিন দিন ধরে কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের বন্দরপাড়া ও আশপাশের এলাকায় মাত্র ১০ টাকায় রবি ও এয়ারটেল সিম বিক্রি করছিলেন ওই তিন ব্যক্তি। সিম দেওয়ার সময় গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি ফিঙ্গারপ্রিন্টও সংগ্রহ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, সিম নেওয়ার পর তারা জানতে পারেন, তাদের অজান্তেই নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। কয়েকজনের আগে থেকে থাকা নগদ অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি কয়েকজনের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, গত তিন দিনে প্রায় চার থেকে পাঁচ শত মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে স্থানীয় কয়েকজন তা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেন।

তারা পুনরায় সিম কেনার কথা বলে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিরা নিজেদের পঞ্চগড়ের বলেয়াপাড়া এলাকায় অবস্থানের কথা জানান। পরে স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে তাদের আটক করে বন্দরপাড়া এলাকায় নিয়ে আসেন।

একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, ১০ টাকায় সিম দেওয়ার সময় তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়েছিল। পরে নগদ অ্যাকাউন্ট নিয়ে সমস্যার কথা জানতে পারেন তারা। তবে কোন সিমের মাধ্যমে বা কীভাবে তাদের তথ্য ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু করে।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, “ঘটনাস্থলে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। গ্রাহকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তাদের অজান্তে নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল কি না এবং অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, এসব বিষয় তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।

Facebook Comments Box