ঢাকা ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগ Logo ১০ টাকার সিম নিতে গিয়ে তথ্যের ঝুঁকিতে শত শত গ্রাহক, পঞ্চগড়ে আটক ৩ Logo কুমারখালীতে ফসলি জমি হুমকিতে: পদ্মা নদীর কোল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন Logo প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়তে Ovipray-এর নতুন উদ্যোগ, অনুষ্ঠিত Robotics ও AI কর্মশালা Logo কালিয়াকৈরে বজ্রপাতের পর নৌকা থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু Logo মনপুরায় ১ ইলিশের দাম ১৫ হাজার টাকা। Logo রূপগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতার ওপর হামলার অভিযোগ Logo পঞ্চগড়ে পরকীয়ার অভিযোগে স্বামীকে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ, স্ত্রী আটক Logo সাতক্ষীরায় ৫৬ বোতল কোরেক্সসহ দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) Logo হাতিয়াতে ধান খেতে কীটনাশক স্প্রের বিষাক্ত বাষ্পে শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ ১৬ শিক্ষার্থী

মনপুরায় জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহে মেম্বার কর্তৃক সাংবাদিক হেনস্তা

লোকমান খাঁন,মনপুরা উপজেলা প্রতিনিধি।
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩৯২

ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের চাউল বিতরণের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি কার্ডে ৮০ কেজি চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ৩২-৩৪ কেজি করে। গত ২৫ মে থেকে পৃথক পৃথক ভাবে ৫টি ইউনিয়নে মোট ৬৬০০ জন জেলের মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হয়।

এরপর ১ জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে চাউল বিতরণ শুরু হয়,প্রতিটি ইউনিয়ন এ ওয়ার্ড ভিত্তিক চাউল বিতরণ করা হয় । অভিযোগ রয়েছে যে, ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য ফজলুল হক লিটন হায়দার (সাহ)এর বিরুদ্ধে- প্রতি কার্ডের জন্য জেলেদের মাঝে ৮০ কেজি করে চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও জেলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এক জনের চাউল দিচ্ছেন দুইজন কে। একজনের কাছে দুই জনকে দিলেও চাউল পাওয়ার কথা ৪০ কেজি করে কিন্তু তিনি দিচ্ছেন ৩২-৩৪ কেজি করে। এবিষয়ে ভুক্তভোগী কামাল অভিযোগ করে জানান আমি ৩৪ কেজি চাল পেয়েছি। মানিক ও সুরেশ একই কথা জানান ।

তারা কেউ জানে না যে প্রতি কার্ডে ৮০ কেজি করে চাল পাবে। আজ সোমবার দুপুর ১ টায় ৪ নং ইউনিয়ন এ গিয়ে দেখা যায় ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের মানুষ ভিজিএফ চাউল নেওয়ার জন্য সকাল থেকে সিরিয়াল ধারে দাঁড়িয়ে আছে। ফজলুল হক লিটন হায়দার (মেম্বার)দাঁড়িয়ে থেকে চার বালতি করে লোক দিয়ে চাল বিতরণ করছেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা দের কাছ থেকে জানতে পারা যায় আজ লিটন মেম্বারের ওয়ার্ড এর চাউল বিতরণ করা হচ্ছে না। এবং তিনি নিজেকে ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করে। কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে থেকে অন্য ওয়ার্ডের মানুষ কে চাউল দিচ্ছেন।

এবং প্রতি কার্ডের চাল ৪০ কেজির জায়গায় ৩২-৩৪ কেজি করে দিচ্ছেন। কিন্তু লিটন মেম্বার বলেন বালতি মেপে মেপে চাউল দিচ্ছেন প্রতি বালতি তে ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চাউল। তিনি চার বালতিতে ৩৮ কেজি চাউল দিচ্ছেন। কিন্তু কয়েক জনের চাউল মেপে দেখা যায় চাউল ৩২-৩৪ কেজি।
স্থানীয় বাসিন্দা’রা আরও জানান ফজলুল হক লিটন হায়দার যুবলীগের ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োজিত আছেন অনেক বছর ধারে।
এই বিষয়ে বরিশাল প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক ৭ নং ওয়ার্ড এর মেম্বার ফজলুল হক লিটন হায়দার কে চাউল ওজনে কম দেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন চাউল কম দেইনা। চাউল ওজন দেওয়া মিটারের ভিডিও এবং জনগণের ভিডিও দেখালে তিনি সাংবাদিক দের সাথে উত্তেজিত হয়ে যায় এবং সাংবাদিকদের কে হুমকি ধামকি দেয়।

এক পর্যায়ে পরক্ষণেই তিনি বলেন আমি চাউল ৪০ কেজি করে দেই। কিন্তু মাপের সময় ১ কেজি কম হতে পারে।
প্যানেল চেয়ারম্যান এর বিষয় টি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু না বলে পালিয়ে যান।
এবিষয়ে ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন প্রশাসক’কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান , চাউল ৩৬ কেজি করে দেওয়ার কথা। কারণ এক বস্তা চাউলে ঘাটতি হয় কেয়ারিং খরচ লেভার খরচ এই কারণে চাউল ৩৬ কেজি করে দেই। কিন্তু ৩৬ কেজির কম হওয়ার কথা না। তিনি আরও জানান ফজলুল হক লিটন মেম্বার ৭ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য। আজ তার ওয়ার্ডের চাউল দিচ্ছেনা। কিন্তু তিনি সবাইকে বলে সে ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পেয়েছে। এমনকি তিনি নাগরিকত্ব সনদে ও সই করেছে অনেকের।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:২৯ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫ ৫৩০ বার পড়া হয়েছে
Logo
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

মনপুরায় জেলেদের চাল বিতরণে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহে মেম্বার কর্তৃক সাংবাদিক হেনস্তা

আপডেট সময় : ০১:০৬:২৯ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫
৩৯২

ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের চাউল বিতরণের ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতি কার্ডে ৮০ কেজি চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে ৩২-৩৪ কেজি করে। গত ২৫ মে থেকে পৃথক পৃথক ভাবে ৫টি ইউনিয়নে মোট ৬৬০০ জন জেলের মধ্যে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ করা হয়।

এরপর ১ জুন থেকে ধারাবাহিকভাবে চাউল বিতরণ শুরু হয়,প্রতিটি ইউনিয়ন এ ওয়ার্ড ভিত্তিক চাউল বিতরণ করা হয় । অভিযোগ রয়েছে যে, ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য ফজলুল হক লিটন হায়দার (সাহ)এর বিরুদ্ধে- প্রতি কার্ডের জন্য জেলেদের মাঝে ৮০ কেজি করে চাউল দেওয়ার কথা থাকলেও জেলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এক জনের চাউল দিচ্ছেন দুইজন কে। একজনের কাছে দুই জনকে দিলেও চাউল পাওয়ার কথা ৪০ কেজি করে কিন্তু তিনি দিচ্ছেন ৩২-৩৪ কেজি করে। এবিষয়ে ভুক্তভোগী কামাল অভিযোগ করে জানান আমি ৩৪ কেজি চাল পেয়েছি। মানিক ও সুরেশ একই কথা জানান ।

তারা কেউ জানে না যে প্রতি কার্ডে ৮০ কেজি করে চাল পাবে। আজ সোমবার দুপুর ১ টায় ৪ নং ইউনিয়ন এ গিয়ে দেখা যায় ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের মানুষ ভিজিএফ চাউল নেওয়ার জন্য সকাল থেকে সিরিয়াল ধারে দাঁড়িয়ে আছে। ফজলুল হক লিটন হায়দার (মেম্বার)দাঁড়িয়ে থেকে চার বালতি করে লোক দিয়ে চাল বিতরণ করছেন। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা দের কাছ থেকে জানতে পারা যায় আজ লিটন মেম্বারের ওয়ার্ড এর চাউল বিতরণ করা হচ্ছে না। এবং তিনি নিজেকে ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করে। কিন্তু তিনি দাঁড়িয়ে থেকে অন্য ওয়ার্ডের মানুষ কে চাউল দিচ্ছেন।

এবং প্রতি কার্ডের চাল ৪০ কেজির জায়গায় ৩২-৩৪ কেজি করে দিচ্ছেন। কিন্তু লিটন মেম্বার বলেন বালতি মেপে মেপে চাউল দিচ্ছেন প্রতি বালতি তে ৯ কেজি ৫০০ গ্রাম করে চাউল। তিনি চার বালতিতে ৩৮ কেজি চাউল দিচ্ছেন। কিন্তু কয়েক জনের চাউল মেপে দেখা যায় চাউল ৩২-৩৪ কেজি।
স্থানীয় বাসিন্দা’রা আরও জানান ফজলুল হক লিটন হায়দার যুবলীগের ইউনিয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োজিত আছেন অনেক বছর ধারে।
এই বিষয়ে বরিশাল প্রতিদিন পত্রিকার সাংবাদিক ৭ নং ওয়ার্ড এর মেম্বার ফজলুল হক লিটন হায়দার কে চাউল ওজনে কম দেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন চাউল কম দেইনা। চাউল ওজন দেওয়া মিটারের ভিডিও এবং জনগণের ভিডিও দেখালে তিনি সাংবাদিক দের সাথে উত্তেজিত হয়ে যায় এবং সাংবাদিকদের কে হুমকি ধামকি দেয়।

এক পর্যায়ে পরক্ষণেই তিনি বলেন আমি চাউল ৪০ কেজি করে দেই। কিন্তু মাপের সময় ১ কেজি কম হতে পারে।
প্যানেল চেয়ারম্যান এর বিষয় টি তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কিছু না বলে পালিয়ে যান।
এবিষয়ে ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন প্রশাসক’কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান , চাউল ৩৬ কেজি করে দেওয়ার কথা। কারণ এক বস্তা চাউলে ঘাটতি হয় কেয়ারিং খরচ লেভার খরচ এই কারণে চাউল ৩৬ কেজি করে দেই। কিন্তু ৩৬ কেজির কম হওয়ার কথা না। তিনি আরও জানান ফজলুল হক লিটন মেম্বার ৭ নং ওয়ার্ড এর ইউপি সদস্য। আজ তার ওয়ার্ডের চাউল দিচ্ছেনা। কিন্তু তিনি সবাইকে বলে সে ইউনিয়ন এর প্যানেল চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পেয়েছে। এমনকি তিনি নাগরিকত্ব সনদে ও সই করেছে অনেকের।

Facebook Comments Box