ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo মরণফাঁদে ভাওয়াল মির্জাপুরের সরু সড়ক, ঝুঁকিতে শত শত শিক্ষার্থী Logo কুষ্টিয়া সদরে সারের কৃত্রিম সংকট: ডিলারের কালোবাজারিতে দিশেহারা সাব-ডিলার ও কৃষক Logo সরকারি জায়গায় বালু ফেলে দখল চেষ্টার অভিযোগ বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে Logo রামপালে চেয়ারম্যান প্রার্থীর গণসংযোগ Logo মনপুরায় ইউপি মেম্বারকে পিটিয়ে হাত-পা ভাঙার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২ Logo নোয়াখালীতে ইয়াবা সেবনের দায়ে দুইজনের কারাদণ্ড Logo যবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য আনোয়ার হোসেন সহ সাত জনের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে দুদক Logo গাজীপুরে পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৭ ইউনিট Logo নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪৫ Logo ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লালমোহনে কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন করেলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কুষ্টিয়া সদরে সারের কৃত্রিম সংকট: ডিলারের কালোবাজারিতে দিশেহারা সাব-ডিলার ও কৃষক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১১

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ও ঝাউদিয়া বাজারে বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলারদের মনগড়া কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ সারের কারবারে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
আইলচারা বাজারে বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলার মেসার্স মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে উঠেছে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তা গোপনে কালোবাজারে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ।

মূল ডিলার নির্ধারিত সাব-ডিলারদের সরকারি বরাদ্দের সার না দিয়ে কৌশলে নামমাত্র দিচ্ছেন। ভুক্তভোগী সাব-ডিলার মো. হাবিবুর রহমান, রেজোয়ান আলী এবং হাজী মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন জানান, তারা ২ নম্বর ওয়ার্ডে সার বিক্রির অনুমোদনপ্রাপ্ত হলেও মূল ডিলার তাদের মাত্র সামান্য কয়েক বস্তা সার দিচ্ছেন। এমনকি মনোয়ার হোসেনের দোকানে সরকারি মূল্য তালিকা ঝুলানো থাকলেও তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে ঝাউদিয়া বাজারের চিত্র আরও আশঙ্কাজনক। সেখানকার প্রধান ডিলার মেসার্স আব্দুল লতিফ ট্রডার্স-এর সত্ত্বাধিকারী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধেও একই কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজ আওতাধীন সাব-ডিলারদের প্রয়োজনীয় সার না দিয়ে মূল বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ফলে ঝাউদিয়া বাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে একাধিক অনুমোদনহীন দোকান। এসব দোকানের কোনো ডিলারশিপ না থাকলেও ডিলারের যোগসাজশে তাদের গুদামে রয়েছে বস্তা বস্তা সার, যা খোলাখুলিভাবে অতিরিক্ত চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামের কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষকরা বাকিতে সার কেনেন বলেই প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি রাখা হয়।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুপালী খাতুনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন অতি দ্রুত বিষয়টি নজরদারিতে এনে দোষীদের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেখা যায়নি এমন কোন অভিযান বা আইননক ব্যবস্থা নিতে।

দুই বাজারের প্রধান ডিলারদের এমন কারচুপির কারণে প্রান্তিক কৃষকেরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে চড়া দামে সার কিনতে গিয়ে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে আইলচারা ও ঝাউদিয়া বাজারের এই সারের নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ ও দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার মনিটরিংক করে কৃষকদের ন্যায্য মূল্যের সার দেয়ার পদক্ষেপ নিতে দাবি জানান।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৫৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
Logo
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

কুষ্টিয়া সদরে সারের কৃত্রিম সংকট: ডিলারের কালোবাজারিতে দিশেহারা সাব-ডিলার ও কৃষক

আপডেট সময় : ১১:২৯:৫৬ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১১

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ও ঝাউদিয়া বাজারে বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলারদের মনগড়া কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ সারের কারবারে চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
আইলচারা বাজারে বিসিআইসির অনুমোদিত ডিলার মেসার্স মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে উঠেছে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তা গোপনে কালোবাজারে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ।

মূল ডিলার নির্ধারিত সাব-ডিলারদের সরকারি বরাদ্দের সার না দিয়ে কৌশলে নামমাত্র দিচ্ছেন। ভুক্তভোগী সাব-ডিলার মো. হাবিবুর রহমান, রেজোয়ান আলী এবং হাজী মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন জানান, তারা ২ নম্বর ওয়ার্ডে সার বিক্রির অনুমোদনপ্রাপ্ত হলেও মূল ডিলার তাদের মাত্র সামান্য কয়েক বস্তা সার দিচ্ছেন। এমনকি মনোয়ার হোসেনের দোকানে সরকারি মূল্য তালিকা ঝুলানো থাকলেও তিনি কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে ঝাউদিয়া বাজারের চিত্র আরও আশঙ্কাজনক। সেখানকার প্রধান ডিলার মেসার্স আব্দুল লতিফ ট্রডার্স-এর সত্ত্বাধিকারী আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধেও একই কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। তিনি নিজ আওতাধীন সাব-ডিলারদের প্রয়োজনীয় সার না দিয়ে মূল বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ফলে ঝাউদিয়া বাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে একাধিক অনুমোদনহীন দোকান। এসব দোকানের কোনো ডিলারশিপ না থাকলেও ডিলারের যোগসাজশে তাদের গুদামে রয়েছে বস্তা বস্তা সার, যা খোলাখুলিভাবে অতিরিক্ত চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামের কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানান, কৃষকরা বাকিতে সার কেনেন বলেই প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি রাখা হয়।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুপালী খাতুনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন অতি দ্রুত বিষয়টি নজরদারিতে এনে দোষীদের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও দেখা যায়নি এমন কোন অভিযান বা আইননক ব্যবস্থা নিতে।

দুই বাজারের প্রধান ডিলারদের এমন কারচুপির কারণে প্রান্তিক কৃষকেরা চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে খোলাবাজার থেকে চড়া দামে সার কিনতে গিয়ে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, অবিলম্বে আইলচারা ও ঝাউদিয়া বাজারের এই সারের নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ ও দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার মনিটরিংক করে কৃষকদের ন্যায্য মূল্যের সার দেয়ার পদক্ষেপ নিতে দাবি জানান।

Facebook Comments Box