ঢাকা ০৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখলের চেষ্টার অভিযোগ, উত্তেজনা Logo কুষ্টিয়ায় ৬ হাজার পিস ইয়াবাসহ বাসের সুপারভাইজার আটক Logo তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী Logo চৌগাছায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ধর্ষণ মামলা, গ্রেফতার ১ Logo সমন্বিত প্রচেষ্টায় ৪-৫ বছরেই অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী Logo উত্তাপ ছড়াচ্ছে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর হাট: কাঁচা মরিচ ৩৮০, বেগুন ১২০ টাকা Logo ​১৯ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা, খেসারত ৩০০ মিটারে: এনায়েতপুরে নিত্যদিনের যানজটে অচল জনজীবন Logo ভারতে পাচারের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও টিএফআই সেল এ রাখা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর Logo শিশুদের সু-স্বাস্থ্যে মায়ের দুধের বিকল্প নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী Logo একসঙ্গে কাজ করবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র: সার্জিও গর

পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখলের চেষ্টার অভিযোগ, উত্তেজনা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১২৫

পঞ্চগড় সদর উপজেলার একটি চা বাগানের আংশিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের একটি অংশ চা বাগানের বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বাগান কর্তৃপক্ষ। এ সময় বাগানে প্রবেশ করে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি তাদের।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের পাহাড়বাড়ি এলাকার এম.এম টি এস্টেটে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।

ঘটনার একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাগানে শ্রমিকরা চা পাতা সংগ্রহের কাজ করছিলেন। এ সময় লাঠি ও কুড়াল হাতে একদল ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেন। উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এক ব্যক্তিকে একজন শ্রমিকের দিকে কুড়াল উঁচিয়ে মারমুখী আচরণ করতে দেখা যায়।

বাগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও মসজিদ কমিটির সংশ্লিষ্টরা ওই জমিকে মসজিদের সম্পত্তি দাবি করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার জিন্নাতপাড়া গ্রামের লিটন, সুজন, আলম, হযরতসহ অন্তত ৫০ জন লাঠিসোঁটা ও কুড়াল নিয়ে বাগানে প্রবেশ করেন। তারা শ্রমিকদের কাজে বাধা দেন এবং সংগ্রহ করা কাঁচা চা-পাতাও শ্রমিকদের কাছ থেকে কেড়ে নেন। প্রতিবাদ করলে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারমুখী আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী জিন্নাতপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, চা বাগানের একটি অংশ উত্তর জিন্নাতপাড়া জামে মসজিদের জমির অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

এম.এম টি এস্টেটের ব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, “জিন্নাতপাড়া গ্রামের লোকজন জমিটি মসজিদের বলে দাবি করলেও তারা একাধিক সালিশ এবং থানায় অনুষ্ঠিত বৈঠকেও দাবির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। জমিটি এম.এম টি এস্টেটের ক্রয়কৃত সম্পত্তি। আরএস হাল রেকর্ড, খতিয়ান এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধসহ সব ধরনের আইনগত নথি আমাদের নামে রয়েছে। এছাড়া বাগানটি বাংলাদেশ চা বোর্ডের অধীনে নিবন্ধিত। কারও কোনো দাবি থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তা নিষ্পত্তি করা উচিত।”

অভিযোগ অস্বীকার না করে জিন্নাতপাড়া গ্রামের আলম বলেন, “সর্বশেষ থানায় বৈঠকে বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। পরে আবার বসার সিদ্ধান্ত হয়। ততদিন পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ অংশ থেকে চা পাতা উত্তোলন বন্ধ রাখার কথা ছিল। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মানেনি। তাই গ্রামের লোকজন গিয়ে বাধা দিয়েছে।”

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেসুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। উভয় পক্ষকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
    • আপনি কি আমাদের ওয়েবসাইট এর নিয়মিত দর্শক..?

      View Results

      Loading ... Loading ...
  • পুরনো ফলাফল
    Logo
    মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
    ফজরসময়
    জোহরসময়
    আসরসময়
    মাগরিবসময়
    ইশাসময়
    সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

    পঞ্চগড়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চা বাগান দখলের চেষ্টার অভিযোগ, উত্তেজনা

    আপডেট সময় : ১১:৪৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
    ১২৫

    পঞ্চগড় সদর উপজেলার একটি চা বাগানের আংশিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের একটি অংশ চা বাগানের বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে বাগান কর্তৃপক্ষ। এ সময় বাগানে প্রবেশ করে শ্রমিকদের কাজে বাধা দেওয়া এবং তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি তাদের।

    রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের পাহাড়বাড়ি এলাকার এম.এম টি এস্টেটে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ।

    ঘটনার একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাগানে শ্রমিকরা চা পাতা সংগ্রহের কাজ করছিলেন। এ সময় লাঠি ও কুড়াল হাতে একদল ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করেন। উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে এক ব্যক্তিকে একজন শ্রমিকের দিকে কুড়াল উঁচিয়ে মারমুখী আচরণ করতে দেখা যায়।

    বাগান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও মসজিদ কমিটির সংশ্লিষ্টরা ওই জমিকে মসজিদের সম্পত্তি দাবি করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার জিন্নাতপাড়া গ্রামের লিটন, সুজন, আলম, হযরতসহ অন্তত ৫০ জন লাঠিসোঁটা ও কুড়াল নিয়ে বাগানে প্রবেশ করেন। তারা শ্রমিকদের কাজে বাধা দেন এবং সংগ্রহ করা কাঁচা চা-পাতাও শ্রমিকদের কাছ থেকে কেড়ে নেন। প্রতিবাদ করলে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারমুখী আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী জিন্নাতপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, চা বাগানের একটি অংশ উত্তর জিন্নাতপাড়া জামে মসজিদের জমির অন্তর্ভুক্ত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।

    এম.এম টি এস্টেটের ব্যবস্থাপক সোহেল রানা বলেন, “জিন্নাতপাড়া গ্রামের লোকজন জমিটি মসজিদের বলে দাবি করলেও তারা একাধিক সালিশ এবং থানায় অনুষ্ঠিত বৈঠকেও দাবির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি। জমিটি এম.এম টি এস্টেটের ক্রয়কৃত সম্পত্তি। আরএস হাল রেকর্ড, খতিয়ান এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধসহ সব ধরনের আইনগত নথি আমাদের নামে রয়েছে। এছাড়া বাগানটি বাংলাদেশ চা বোর্ডের অধীনে নিবন্ধিত। কারও কোনো দাবি থাকলে আইনগত প্রক্রিয়ায় তা নিষ্পত্তি করা উচিত।”

    অভিযোগ অস্বীকার না করে জিন্নাতপাড়া গ্রামের আলম বলেন, “সর্বশেষ থানায় বৈঠকে বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। পরে আবার বসার সিদ্ধান্ত হয়। ততদিন পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ অংশ থেকে চা পাতা উত্তোলন বন্ধ রাখার কথা ছিল। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মানেনি। তাই গ্রামের লোকজন গিয়ে বাধা দিয়েছে।”

    পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেসুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। উভয় পক্ষকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।