ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল বোটসহ ১৬ জেলেকে উদ্ধার করল নৌবাহিনী Logo বরিশাল-ভোলা সংযোগ: উন্নয়নের প্রত্যাশা নাকি অগ্রাধিকারের সংকট? Logo মনপুরায় জেলের জালে ১৬ কেজির কোড়াল, নিলামে বিক্রি ২৪ হাজার টাকায় Logo লালমোহনে অবৈধ সিগারেট ও রোলিং পেপার জব্দ, গোডাউন মালিকদের নিয়ে প্রশ্ন Logo স্বামীর ধারালো অস্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম, হাসপাতালে স্ত্রী Logo রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা: সরকারের আকার বাড়লেই কি বাড়ে সক্ষমতা? Logo নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯ Logo সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বোরহানউদ্দিনে কাচিয়া ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব: টাকার বিনিময়ে মালিকানা বদল!

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
১০০

​ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন সাধারণ মানুষের হয়রানির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ঘুষ ছাড়া এখানে কোনো ফাইল নড়ে না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমান।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে অন্যত্র বদলি করা হলেও রহস্যজনকভাবে একই কর্মস্থলে ফিরে আসেন বজলুর রহমান। তার ফিরে আসার পর থেকেই ভূমি সেবা পেতে ঘুষ দেওয়া যেন একটি ‘অলিখিত নিয়মে’ পরিণত হয়েছে।

​কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীনে সাতটি মৌজায় ভূমি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেতে ১০ হাজার টাকার বেশি এবং নামজারি বা নতুন খতিয়ান খুলতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলেই শুরু হয় অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দিনের পর দিন হয়রানি। এছাড়াও সরকারি রশিদে খাজনার অংক কম লিখে বিপুল রাজস্ব আত্মসাতের গুঞ্জনও রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জমির মালিকানা নিয়ে কারচুপির ঘটনায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, টবগী ইউনিয়নের দালালপুর মৌজার বিএস ১৯৪৫ নম্বর খতিয়ানে ষোল আনা অংশের রেকর্ডভুক্ত মালিক মিলন মিয়া চৌধুরী অথচ, ওই খতিয়ানে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা বা খাজনা রশিদ ইস্যু করা হয়েছে নাজিমউদ্দীন চৌধুরীর নামে। শুধু তাই নয়, ৬৪ শতাংশ জমির খাজনা হিসেবে মাত্র ১০ টাকা আদায় দেখানো হয়েছে, যা আইন ও বিধিমালার চরম লঙ্ঘন।

নিজের ভুল স্বীকার করে কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, “এটি আমার ভুল হয়েছে, তবে দাখিলাটি বাতিলের সুযোগ রয়েছে।”

​এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রণজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, “রেকর্ডভুক্ত মালিক ছাড়া অন্য কারও নামে খাজনা বা দাখিলা দেওয়ার কোনো সুযোগ বা অধিকার কারো নেই। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যেন সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে সরকারি সেবা পেতে পারে।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৭৭ বার পড়া হয়েছে
Logo
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

বোরহানউদ্দিনে কাচিয়া ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব: টাকার বিনিময়ে মালিকানা বদল!

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৪৫ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
১০০

​ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন সাধারণ মানুষের হয়রানির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ঘুষ ছাড়া এখানে কোনো ফাইল নড়ে না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমান।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে অন্যত্র বদলি করা হলেও রহস্যজনকভাবে একই কর্মস্থলে ফিরে আসেন বজলুর রহমান। তার ফিরে আসার পর থেকেই ভূমি সেবা পেতে ঘুষ দেওয়া যেন একটি ‘অলিখিত নিয়মে’ পরিণত হয়েছে।

​কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অধীনে সাতটি মৌজায় ভূমি সংক্রান্ত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পেতে ১০ হাজার টাকার বেশি এবং নামজারি বা নতুন খতিয়ান খুলতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী টাকা না দিলেই শুরু হয় অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দিনের পর দিন হয়রানি। এছাড়াও সরকারি রশিদে খাজনার অংক কম লিখে বিপুল রাজস্ব আত্মসাতের গুঞ্জনও রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জমির মালিকানা নিয়ে কারচুপির ঘটনায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, টবগী ইউনিয়নের দালালপুর মৌজার বিএস ১৯৪৫ নম্বর খতিয়ানে ষোল আনা অংশের রেকর্ডভুক্ত মালিক মিলন মিয়া চৌধুরী অথচ, ওই খতিয়ানে অনলাইন ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা বা খাজনা রশিদ ইস্যু করা হয়েছে নাজিমউদ্দীন চৌধুরীর নামে। শুধু তাই নয়, ৬৪ শতাংশ জমির খাজনা হিসেবে মাত্র ১০ টাকা আদায় দেখানো হয়েছে, যা আইন ও বিধিমালার চরম লঙ্ঘন।

নিজের ভুল স্বীকার করে কাচিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, “এটি আমার ভুল হয়েছে, তবে দাখিলাটি বাতিলের সুযোগ রয়েছে।”

​এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রণজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, “রেকর্ডভুক্ত মালিক ছাড়া অন্য কারও নামে খাজনা বা দাখিলা দেওয়ার কোনো সুযোগ বা অধিকার কারো নেই। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব এবং তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যেন সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে সরকারি সেবা পেতে পারে।

Facebook Comments Box