
মনপুরা উপজেলার ৩ নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে মোটর সাইকেল চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজের ঘর ভাঙচুর ও তছনছ, গৃহ বঁধু কে ধর্ষণের চেষ্টা এমন অভিযোগ করে প্রতিপক্ষ মামুন ব্যাপারিকে ফাঁসাতে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে মালেক ব্যাপারির ছেলে করিমের বিরুদ্ধে করে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর ) রাতে ৩ নং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আলমনগর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা মালেক এর বাসায় চুরি এবং গৃহ বঁধু কে ধর্ষণের চেষ্টা বলে এমন একটা মিথ্যা অপবাদ দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াসিন মিয়ার দ্বিতীয় ছেলে মামুনের ব্যাপারির বিরুদ্ধে।
মোটর সাইকেল চুরি ঘটনায় আলম নগর গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসিন মিয়ার ছেলে মো. মামুন ব্যাপারি মনপুরা থানায় অভিযোগ দাখিল করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযোগ তদন্ত করে এ.এস.আই সাগর ও সঙ্গীয় ফোর্স আলম বাজারের সাইকেল মেকানিক মালেকের একটি বদ্ধ ঘর থেকে মামুনের চুরি হওয়া মোটরসাইকেল টি উদ্ধার করে, মনপুরা থানায় আনা হয় ।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরনবী জানান, ইয়াসিন মিয়ার দ্বিতীয় ছেলে মামুনের সাথে মালেক এবং তার ছেলে করিমের সাথে দীর্ঘদিনের একটি শত্রুতা ছিলো। তারই জের ধরে গত ১০ তারিখ বুধবার রাতে আলম নগর মাদ্রাসার মাঠে মানুনের রেখে যাওয়া মটরসাইকেল টি মালেকের ছেলে করিম মোটর সাইকেলের ঘাড় লক ভেঙে রাতের আধারে নিয়ে যাওয়ার কথা শুনেছি । পরে শুনি মামুন নাকি শিশুর গলায় ছুরি ধরে ধর্ষণ চেষ্টা করেছি, লুট করেছি, রাত ২:৩০ মিনিটে তার স্বামী বাসায় না থেকে রাস্তায় থাকবে কেন চোর আসার আগে বাসা হতে বের হল, চোর যাওয়ার সময় সে বাসায় আসল।এটা সচেতন মহলের কাছে প্রশ্ন।একা একটা মানুষ দ্বারা এসকল কাজ কিভাবে সম্ভব। আমি চাই সুষ্ঠ তদন্ত করা যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মালেকের ছেলে করিম এর বউ বলেন, বুধবার সন্ধায় আমার শশুর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমি এবং আমার স্বামী করিম তার খেদমত করি রাত আনুমানিক ২ঃ৩০মিনিটে পর্যন্ত। এর পর আমি আমার রুমের ভিতর শুয়ে থাকি। আমার স্বামীর গরম লাগার কারনে সে রাস্তায় যায়। এর কিছুক্ষণ পর আমি ঘুমিয়ে যাই হঠাৎ করে আমি ঘুমের ভিতর অনুভব করতে থাকি আমার শরীরের বিভিন্ন অংশে কেউ একজন হাত দিতেছে। আমি ভেবে ছিলাম আমার শ্বশুর অথবা আমার স্বামী তাই আমি প্রথমে কিছু বলি নাই। কিছুক্ষণ পর আমি অনুভব করি এটা আমার স্বামী অথবা শ্বশুর না। আমি চোখ খুলে দেখি ইয়াসিন মিয়ার ছেলে মামুন। এর পর আমার স্বামী ঘরে আসলে মামুন দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি চিৎকার দিয়ে বলি মামুন যায় ওকে ধর। এর পর আমার স্বামী তাকে ধরলে সে পালিয়ে যায়। তার হাতের কব্জি মোচড়িয়ে দেয়।হাতে থাকা মোবাইলটা ভেঙ্গে ফেলে।
এই ব্যাপারে মামুন বলেন, আলম বাজার কিছুদিন আগে মালেক, করিম, এবং সাদ্দাম ডাক্তার এর সাথে একটি ঝামেলা হয়। এরই জেড় ধরে মালেকের ছেলে করিম আমার মোটর সাইকেলটি চুরি করে। আমি প্রতিদিনের মত বুধবারে ও আমার মোটর সাইকেল টি আলমনগর নুরানি মাদ্রাসার মাঠে রেখে ১২ টার দিকে বাসায় যাই। বৃহস্পতি বার সকালে আমি মাদ্রাসার মাঠে এসে দেখি আমার গাড়ি নেই। এর পর আমি আলম বাজার গিয়ে লোকজনকে জিঙ্গেস করলে তারা বলে তুই নাকি গত রাতে মালেকের বাসায় চুরি করছস করিমের বউকে ধর্ষনের চেষ্টা করছস। এমন কথা শুনে আমি অবাক হই। আমি বল্লাম আমার মটরসাইকেল চুরি হয়েছে উল্টো আমাকেই চোর বানাইছে। তিনি আরও বলেন আমি আমার মটর সাইকেল চুরি হয়েছে এই জন্য আমি মনপুরা থানায় অভিযোগ করেছি এবং পুলিশ আলম বাজার গিয়ে মালেকের বদ্ধ ঘর থেকে আমার মটর সাইকেল উদ্ধার করেছে।
মনপুরা থানার এস আই জাফর ইকবাল জানান, আমাদের কাছে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে মটর সাইকেল আটকিয়ে রাখার একটি অভিযোগ আসে। এরপর আমাদের টিম গিয়ে মটর সাইকেল টি উদ্ধার করে মনপুরা থানায় নিয়ে আসে। মটর সাইকেল টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মটর সাইকেল টি মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন