ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা: সরকারের আকার বাড়লেই কি বাড়ে সক্ষমতা? Logo নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯ Logo সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo তজুমদ্দিনে ৪১টি চান্দিনা ভিটা বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন। Logo তেঁতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার Logo ইসকনের নামে অনুদান, জমির মালিকানা নিয়ে নতুন বিতর্ক অর্থ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ Logo দক্ষিণ আইচা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নির্বাচন: সভাপতি ফরিদ, সম্পাদক সাইফুল Logo রূপগঞ্জে জামদানি শাড়ির নকশা বৈচিত্র ও রং বিন্যাস বিষয়ক কর্মশালা Logo স্থানীয় সরকারে ড. মঈন খান: সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো

অন্ধকারে মনপুরা! রক্ষা করা হচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার! জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ বঞ্চিত মনপুরার দেড় লাখ মানুষ!

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২০৭

লোকমান খাঁন(মনপুরা প্রতিনিধি)

“প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ।” এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে শতভাগ বিদ্যুত পৌছে দেয়ার ঘোষনা দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌছে গেলেও জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে ভোলা জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার দেড় লাখ মানুষ।

জেলার মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলাটি ছোট বড় ১২ টি চরের সমন্বয়ে ৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা চিন্তা করে ওজোপাডিকো’র (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবুশন কোম্পানী) অধীনে জেনারেটর মেশিনের মাধ্যমে সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ২ টা পর্যন্ত দৈনিক ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিলো। কিন্তু ইদানিং ওজোপাডিকোর আবাসিক প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় এই ৮ আট ঘন্টা বিদ্যুৎ সেবাও পাচ্ছেন না মনপুরার মানুষ। এই ৮ ঘন্টা বিদ্যুতের মধ্যেও রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। গত কয়েক বছর ধরে ঠিকাঠাক চলে আসলেও গত কয়েকমাস যাবৎ এই আট ঘন্টা বিদ্যুৎ নিয়ে চলছে তালবাহানা। গত একমাস ধরে মেশিন বিকলের বাহানা দিয়ে পুরোপুরি মেশিন বন্ধ করে রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ না পেয়ে মনপুরার মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। এতে পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে মনপুরা উপজেলার বাজার ঘাট, অফিস-আদালত, ব্যাংক, কোর্ট-কাচারী। এতে লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরাও ব্যাপক পড়ালেখার ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।

এছাড়াও ৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটির ৩ টি ইউনিয়নে ইড কলের আওতায় সোলার গ্রীডের মাধ্যমে চড়া মূল্যে ৩০ টাকা ইউনিট দরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সোলার গ্রীডের মাধ্যমে দেয়া এসব বিদ্যুৎও এখন ২৪ ঘন্টা দিতে হিমসিম খাচ্ছে সোলার কোম্পানী। ২৪ ঘনন্টার মধ্যে ২/৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে তারা। এছাড়া চাহিদামত ভোল্টেজ না পেয়ে অতিষ্ট জনজীবন।

এদিকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সরকারি বিদ্যুৎ পৌঁছে গেলেও অজানা কারনে মনপুরা উপজেলায় এখনো জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ চালু হয়নি। ইতোমধ্যে ভোলা সদর উপজেলার চর ভবানীপুর, চর মেদুয়া ও কাচিয়ার চর, চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকুরীমুকরী ও মুজিবনগর, তজুমদ্দিন উপজেলার চর মোজাম্মেল, চর জহির উদ্দিন, মংলার চর, চর সোনাপুর ও চর আবদুল্লাহসহ ১৯ টি চরে ইতোমধ্যে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পৌঁছে গেছে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ। এসব চরের বাসিন্দাদের জীবন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলেও অন্ধকারে রয়ে গেছে মনপুরার দেড় লক্ষ মানুষের ভাগ্য।

ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুতের দাবীতে দফায় দফায় মানববন্ধন করেছে মনপুরার মানুষ। ঢাকা, ভোলা, চরফ্যাশন ও মনপুরায় একাধিকবার মানববন্ধন করা হলেও মনপুরার মানুষের ভাগ্যে জোটিনি সেই কাঙ্খিত বিদ্যুৎ সুবিধা। এমতাবস্থায় দ্রুত জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ চালু করা মনপুরার দেড় লক্ষ মানুষের প্রাণের দাবীতে পরিনত হয়েছে। তাই নিকটবর্তি তজুমদ্দিন উপজেলার চর জহির উদ্দিন অথবা চরফ্যাশন উপজেলা থেকে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দ্রুত জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ মনপুরায় চালু করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৭:০৫:০৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট ২০২৩ ২৯৯ বার পড়া হয়েছে
Logo
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

অন্ধকারে মনপুরা! রক্ষা করা হচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার! জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ বঞ্চিত মনপুরার দেড় লাখ মানুষ!

আপডেট সময় : ০৭:০৫:০৩ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ আগস্ট ২০২৩
২০৭

লোকমান খাঁন(মনপুরা প্রতিনিধি)

“প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ।” এই স্লোগানকে সামনে রেখে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে শতভাগ বিদ্যুত পৌছে দেয়ার ঘোষনা দিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে শতভাগ বিদ্যুৎ পৌছে গেলেও জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে ভোলা জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার দেড় লাখ মানুষ।

জেলার মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলাটি ছোট বড় ১২ টি চরের সমন্বয়ে ৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। উপজেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের কথা চিন্তা করে ওজোপাডিকো’র (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবুশন কোম্পানী) অধীনে জেনারেটর মেশিনের মাধ্যমে সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ২ টা পর্যন্ত দৈনিক ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিলো। কিন্তু ইদানিং ওজোপাডিকোর আবাসিক প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় এই ৮ আট ঘন্টা বিদ্যুৎ সেবাও পাচ্ছেন না মনপুরার মানুষ। এই ৮ ঘন্টা বিদ্যুতের মধ্যেও রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। গত কয়েক বছর ধরে ঠিকাঠাক চলে আসলেও গত কয়েকমাস যাবৎ এই আট ঘন্টা বিদ্যুৎ নিয়ে চলছে তালবাহানা। গত একমাস ধরে মেশিন বিকলের বাহানা দিয়ে পুরোপুরি মেশিন বন্ধ করে রেখেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ না পেয়ে মনপুরার মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। এতে পুরোপুরি অন্ধকারে রয়েছে মনপুরা উপজেলার বাজার ঘাট, অফিস-আদালত, ব্যাংক, কোর্ট-কাচারী। এতে লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। পাশাপাশি স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরাও ব্যাপক পড়ালেখার ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে।

এছাড়াও ৫ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত উপজেলাটির ৩ টি ইউনিয়নে ইড কলের আওতায় সোলার গ্রীডের মাধ্যমে চড়া মূল্যে ৩০ টাকা ইউনিট দরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সোলার গ্রীডের মাধ্যমে দেয়া এসব বিদ্যুৎও এখন ২৪ ঘন্টা দিতে হিমসিম খাচ্ছে সোলার কোম্পানী। ২৪ ঘনন্টার মধ্যে ২/৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে তারা। এছাড়া চাহিদামত ভোল্টেজ না পেয়ে অতিষ্ট জনজীবন।

এদিকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সরকারি বিদ্যুৎ পৌঁছে গেলেও অজানা কারনে মনপুরা উপজেলায় এখনো জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ চালু হয়নি। ইতোমধ্যে ভোলা সদর উপজেলার চর ভবানীপুর, চর মেদুয়া ও কাচিয়ার চর, চরফ্যাশন উপজেলার চর কুকুরীমুকরী ও মুজিবনগর, তজুমদ্দিন উপজেলার চর মোজাম্মেল, চর জহির উদ্দিন, মংলার চর, চর সোনাপুর ও চর আবদুল্লাহসহ ১৯ টি চরে ইতোমধ্যে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পৌঁছে গেছে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ। এসব চরের বাসিন্দাদের জীবন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হলেও অন্ধকারে রয়ে গেছে মনপুরার দেড় লক্ষ মানুষের ভাগ্য।

ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুতের দাবীতে দফায় দফায় মানববন্ধন করেছে মনপুরার মানুষ। ঢাকা, ভোলা, চরফ্যাশন ও মনপুরায় একাধিকবার মানববন্ধন করা হলেও মনপুরার মানুষের ভাগ্যে জোটিনি সেই কাঙ্খিত বিদ্যুৎ সুবিধা। এমতাবস্থায় দ্রুত জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ চালু করা মনপুরার দেড় লক্ষ মানুষের প্রাণের দাবীতে পরিনত হয়েছে। তাই নিকটবর্তি তজুমদ্দিন উপজেলার চর জহির উদ্দিন অথবা চরফ্যাশন উপজেলা থেকে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দ্রুত জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুৎ মনপুরায় চালু করা সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments Box