ভোলার চরফ্যাশনে তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করে ২ ভরি স্বর্ণ ও ৪ লাখ টাকা লুট এবং শয়নকক্ষে তাকে অবরুদ্ধ করে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নুর করিম, হানিফ ও নাজমুল নামে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। পরে শিশু সন্তানদের চিৎকারে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলে শিশুরা অবরুদ্ধ অবস্থায় তাদের মাকে উদ্ধার করে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারী) ভুক্তভোগী গৃহবধূ চরফ্যাশন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযুক্ত নুর করিম ওই গ্রামের মৃত আবদুল কাদের মাঝির ছেলে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী জানায়, ঘটনার দিন মঙ্গলবার, ওই গৃহবধূ তার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে জমি কেনার জন্য ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা তুলে বাড়ি ফেরেন। বুধবার সকালে ওই টাকা জমি মালিককে দেওয়ার কথা ছিল। তিনি একাই তিন শিশু সন্তান নিয়ে বাস করতেন, কারণ তার স্বামী চট্টগ্রামে কর্মস্থলে ছিলেন।
সেই রাতে খাবার খেয়ে তিনি সন্তানদের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। ভুলবশত ঘরের সিঁড়ির চিলে কোঠার গেইট খোলা ছিল। গভীর রাতে ঘরে হাটার শব্দ শুনে তিনি সজাগ হন। এসময় নুর করিম ও তার সঙ্গীরা হামলা চালিয়ে তার হাত ও মুখ বেঁধে রাখে এবং ৪ লাখ টাকা ও ২ ভরি স্বর্ণ অলংকারসহ ঘরের সকল মালামাল লুট করে। শিশু সন্তানদেরকে অস্ত্রের মুখে অন্য একটি কক্ষে আটকানো হয় এবং গৃহবধূকে শয়নকক্ষে অবরুদ্ধ রাখা হয়। সেখানেই গৃহবধূকে নুর করিম, হানিফ ও নাজমুল সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে চরফ্যাশন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত নুর করিম বলেন, তাদের সাথে আমার বিরোধ রয়েছে ওই রাতে আমার দোকান চুরি হয়েছে। ধর্ষণের বিষয় আমার জানা নাই।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মাখলুকুর রহমান বলেন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন জানিয়ে এক নারী হাসপাতালে এসেছিলেন। তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে থানা-পুলিশ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
চরফ্যাশন থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, এই ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূ তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত চলমান করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন