ভোলার মনপুরা উপজেলার ৩ নং উত্তর সাকুচিয়া কামালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে প্রতিকার এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে গত রবিবার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুল হাসান বেশ কিছুদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সময় যৌন নিপীড়ন করে আসছিলো এবং গত সপ্তাহে বিদ্যালয়ের ভেতরেই ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি পরিবারকে জানানোর পর, লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে তারা দ্বিধায় থাকলেও অবশেষে ন্যায়বিচারের আশায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের দ্বারস্থ হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও করা হয়েছে কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মো:আশরাফুল হোসেন বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য দোষীদেরকে ভুক্তভোগী পরিবারের বাসায় পাঠিয়েছেন বলে জানান তারা।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক হাসান বলেন, আমি একজন শিক্ষক হয়ে এ সমস্ত কাজ করতে পারিনা এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে উক্ত বিষয়ে তদন্ত করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: আশরাফ হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান আমি এ ব্যপারে বক্তব্য দিতে পারবো না।
অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: কামরুল হাসান বলেন, “আমরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সাথে এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে।”
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন