ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo সৎ সাহস থাকলে পালিয়ে নয়, আদালতে আসুন: ডা. জাহিদ Logo সাইবার বুলিং ঠেকাতে কার্যকর নীতি চায় আইআরআই, আইন সংশোধনে মতামত নিচ্ছে সরকার Logo মনপুরায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত Logo “মনপুরায় দ্রুত জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও কলাতলীতে বেড়ীবাঁধ নির্মানের আশ্বাস -কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারন সম্পাদক ও এমপি নয়ন Logo কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগ Logo ১০ টাকার সিম নিতে গিয়ে তথ্যের ঝুঁকিতে শত শত গ্রাহক, পঞ্চগড়ে আটক ৩ Logo কুমারখালীতে ফসলি জমি হুমকিতে: পদ্মা নদীর কোল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন Logo প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়তে Ovipray-এর নতুন উদ্যোগ, অনুষ্ঠিত Robotics ও AI কর্মশালা Logo কালিয়াকৈরে বজ্রপাতের পর নৌকা থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু Logo মনপুরায় ১ ইলিশের দাম ১৫ হাজার টাকা।

চরফ্যাশনে চার্চ অব বাংলাদেশ কলোনীর কবরস্থান, শ্মশান ও টিউবওয়েল দখলের অভিযোগ ‎ ‎মানববন্ধন ও বিক্ষোভে ক্ষোভ প্রকাশ কলোনীবাসীর

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৩৩৮

‎ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন চর কচ্ছপিয়া এলাকায় অবস্থিত চার্চ অব বাংলাদেশ কলোনীর কবরস্থান, শ্মশান ও একমাত্র টিউবওয়েল দখলের অভিযোগ উঠেছে কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত বুধবার (৬ মে) কলোনীবাসীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ৩৪ বছর আগে ডায়োসিসন ট্রাস্ট এসোসিয়েশন চার্চ অব বাংলাদেশ নামের একটি সংস্থা ভূমিহীন পরিবারগুলোকে সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দেয়। এরপর থেকে ৫৪টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে ওই কলোনীতে বসবাস করে আসছে।

‎সম্প্রতি কলোনীবাসীরা জানতে পারেন, কোস্ট ফাউন্ডেশন চার্চ অব বাংলাদেশের কাছ থেকে ৬৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেছে। তবে জমি ক্রয়ের পরও সংস্থাটি কলোনীর একমাত্র টিউবওয়েল, কবরস্থান ও শ্মশান দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

‎কলোনীর বাসিন্দা সুমি বেগম বলেন,আমার একমাত্র আশ্রয়স্থল ঘরভিটা দখল করে নিয়েছে কোস্ট ফাউন্ডেশন। আমি এখন ভিটেমাটি হারা।
‎দক্ষিণ আইচা থানার মাঝি শাহে আলম বলেন,
‎আমার ঘরভিটা এবং বিভিন্ন ফল-ফলাদির গাছ বেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে আমাকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে।

‎কলোনীতে প্রথম থেকে বসবাস করা বৃদ্ধা সাধনা রানী বলেন,
‎আমাদেরকে আজীবন বসবাসের নিশ্চয়তা দিয়ে ঘরভিটা দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ সৎকারের জন্য শ্মশানের জায়গাও দেওয়া হয়েছিল। আমরা মহিলারা নিজেরা মাটি কেটে পুকুর খনন করেছি। এখন কোস্ট ফাউন্ডেশন ইটের বাউন্ডারি নির্মাণ করছে। আমরা গরিব মানুষ, কলোনি ছাড়া শ্মশানের আর কোনো জায়গা নেই। এই জায়গা হারিয়ে গেলে মৃত্যুর পর আমাদের কী হবে?”

ভুক্তভোগী রুহুল আমীন বলেন,আমার মা ও বোনের কবরের ওপর দিয়েই কোস্ট ফাউন্ডেশন ইটের বাউন্ডারি নির্মাণ করছে। এতে মৃতদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত লাগছে।”

‎কলোনীর আরেক বাসিন্দা মনসুর আহমেদ বলেন,
‎আজীবন বসবাসের নিশ্চয়তা পেয়েই আমরা এখানে স্বজনদের কবর দিয়েছি। এখন যদি জায়গা দখল হয়ে যায়, তাহলে কবরবাসীদের ঠিকানাও হারিয়ে যাবে।

‎এদিকে, মো. ইউনুছ সিকদার গং ঘটনাস্থলে পৃথক মানববন্ধন করে জমিটির পৈত্রিক মালিকানা দাবি করেন। মানববন্ধনে মাওলানা বশির উল্লাহ গং বলেন,
‎কোস্ট ফাউন্ডেশন আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছে। সিএন্ডবি সংলগ্ন রাস্তার উত্তর পাশের জমির বৈধ মালিক আমরা।”

‎মো. ইউনুছ সিকদার বলেন,এই জমি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। সিএস, আরএস ও এসএ খতিয়ান অনুযায়ী আমরা বৈধ মালিক। কিন্তু কোস্ট ফাউন্ডেশন যে ৬৯ শতাংশ জমির দলিল করেছে, তা ভিন্ন দাগ ও খতিয়ান থেকে করা হয়েছে, যার সঙ্গে আমাদের খতিয়ানের কোনো মিল নেই।
অভিযোগের বিষয়ে কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর ভোলা অঞ্চলের টিম লিডার রাশেদা বেগম বলেন,
‎কোস্ট ফাউন্ডেশন বৈধভাবে ৬৯ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগদখলে রয়েছে। সংস্থাটি কারও ভিটাবাড়ি দখল করে না।”

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:৪৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ২৩৭ বার পড়া হয়েছে
Logo
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

চরফ্যাশনে চার্চ অব বাংলাদেশ কলোনীর কবরস্থান, শ্মশান ও টিউবওয়েল দখলের অভিযোগ ‎ ‎মানববন্ধন ও বিক্ষোভে ক্ষোভ প্রকাশ কলোনীবাসীর

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৪৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
৩৩৮

‎ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন চর কচ্ছপিয়া এলাকায় অবস্থিত চার্চ অব বাংলাদেশ কলোনীর কবরস্থান, শ্মশান ও একমাত্র টিউবওয়েল দখলের অভিযোগ উঠেছে কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত বুধবার (৬ মে) কলোনীবাসীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেন।

‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ৩৪ বছর আগে ডায়োসিসন ট্রাস্ট এসোসিয়েশন চার্চ অব বাংলাদেশ নামের একটি সংস্থা ভূমিহীন পরিবারগুলোকে সেখানে বসবাসের সুযোগ করে দেয়। এরপর থেকে ৫৪টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে ওই কলোনীতে বসবাস করে আসছে।

‎সম্প্রতি কলোনীবাসীরা জানতে পারেন, কোস্ট ফাউন্ডেশন চার্চ অব বাংলাদেশের কাছ থেকে ৬৯ শতাংশ জমি ক্রয় করেছে। তবে জমি ক্রয়ের পরও সংস্থাটি কলোনীর একমাত্র টিউবওয়েল, কবরস্থান ও শ্মশান দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

‎কলোনীর বাসিন্দা সুমি বেগম বলেন,আমার একমাত্র আশ্রয়স্থল ঘরভিটা দখল করে নিয়েছে কোস্ট ফাউন্ডেশন। আমি এখন ভিটেমাটি হারা।
‎দক্ষিণ আইচা থানার মাঝি শাহে আলম বলেন,
‎আমার ঘরভিটা এবং বিভিন্ন ফল-ফলাদির গাছ বেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে আমাকে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে।

‎কলোনীতে প্রথম থেকে বসবাস করা বৃদ্ধা সাধনা রানী বলেন,
‎আমাদেরকে আজীবন বসবাসের নিশ্চয়তা দিয়ে ঘরভিটা দেওয়া হয়েছে। মৃতদেহ সৎকারের জন্য শ্মশানের জায়গাও দেওয়া হয়েছিল। আমরা মহিলারা নিজেরা মাটি কেটে পুকুর খনন করেছি। এখন কোস্ট ফাউন্ডেশন ইটের বাউন্ডারি নির্মাণ করছে। আমরা গরিব মানুষ, কলোনি ছাড়া শ্মশানের আর কোনো জায়গা নেই। এই জায়গা হারিয়ে গেলে মৃত্যুর পর আমাদের কী হবে?”

ভুক্তভোগী রুহুল আমীন বলেন,আমার মা ও বোনের কবরের ওপর দিয়েই কোস্ট ফাউন্ডেশন ইটের বাউন্ডারি নির্মাণ করছে। এতে মৃতদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত লাগছে।”

‎কলোনীর আরেক বাসিন্দা মনসুর আহমেদ বলেন,
‎আজীবন বসবাসের নিশ্চয়তা পেয়েই আমরা এখানে স্বজনদের কবর দিয়েছি। এখন যদি জায়গা দখল হয়ে যায়, তাহলে কবরবাসীদের ঠিকানাও হারিয়ে যাবে।

‎এদিকে, মো. ইউনুছ সিকদার গং ঘটনাস্থলে পৃথক মানববন্ধন করে জমিটির পৈত্রিক মালিকানা দাবি করেন। মানববন্ধনে মাওলানা বশির উল্লাহ গং বলেন,
‎কোস্ট ফাউন্ডেশন আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা করছে। সিএন্ডবি সংলগ্ন রাস্তার উত্তর পাশের জমির বৈধ মালিক আমরা।”

‎মো. ইউনুছ সিকদার বলেন,এই জমি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি। সিএস, আরএস ও এসএ খতিয়ান অনুযায়ী আমরা বৈধ মালিক। কিন্তু কোস্ট ফাউন্ডেশন যে ৬৯ শতাংশ জমির দলিল করেছে, তা ভিন্ন দাগ ও খতিয়ান থেকে করা হয়েছে, যার সঙ্গে আমাদের খতিয়ানের কোনো মিল নেই।
অভিযোগের বিষয়ে কোস্ট ফাউন্ডেশন-এর ভোলা অঞ্চলের টিম লিডার রাশেদা বেগম বলেন,
‎কোস্ট ফাউন্ডেশন বৈধভাবে ৬৯ শতাংশ জমি ক্রয় করে ভোগদখলে রয়েছে। সংস্থাটি কারও ভিটাবাড়ি দখল করে না।”

Facebook Comments Box