admin
২ আগস্ট ২০২৩, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১১৫ জন

চরভদ্রাসনে মাছ শিকারে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে চায়না দুয়ারী

[ppsp_buttons]

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মাছ শিকারে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে চায়না দুয়ারী। পদ্মা নদীসহ বিভিন্ন খাল-বিলে এসব নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী পেতে ধ্বংস করা হচ্ছে দেশী প্রজাতির ডিমওয়ালা মাছসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী। সংশ্লিষ্টদের নাকের ডগাতেই সারা বছরই চলে এ ধ্বংসযজ্ঞ।

চরভদ্রাসনে চায়না দুয়ারীর ইতিহাস খুব বেশী পুরনো নয়।

২০১৫ সালের দিকে চরভদ্রাসনে প্রথমে অল্পবিস্তর এ চায়না দুয়ারীর ব্যবহার শুরু হয়। সে সময় ২২ মিটার দৈর্ঘের একটি দুয়ারীর দাম ছিল ৭ থেকে আট হাজার টাকা। ধীরে ধীরে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে এবং হারিয়ে যেতে থাকে বাঁশের তৈরি দুয়ারী। বর্তমানে এ দুয়ারীর ব্যবহার ভয়াবহ আকার ধারন করেছে।

এখন সব থেকে ব্যবহার হয়ে থাকে ১৯ মিটার দৈর্ঘের চায়না দুয়ারী। যার মূল্য তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। চরভদ্রাসনের নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অধিকাংশ জেলেই এ দুয়ারী ব্যবহার করে থাকেন।

মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের বিশাই মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রাম সংলগ্ন পদ্মা নদীতে দেখা যায় প্রায় পাঁচশত মিটার দীর্ঘ ও চারশত মিটার প্রস্থ জলসীমায় অসংখ্য বাঁশ পুতে রাখা হয়েছে।

প্রথমে দেখে বোঝার উপায় নেই কি কারণে পদ্মা জুড়ে এ বাঁশ। কৌতুহলবসত স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, এই বাঁশের সাথে চায়না দুয়ারী পাতা রয়েছে। সে সময় লক্ষ্য করা যায় নদীর পাড়ে সারি-সারি চায়না দুয়ারী রোদে শোকনো হচ্ছে। এছাড়া চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের কল্যানপুর, চর গোপালপুর, চর হরিরামপুরের নমুর ছাম, পাঁচ নম্বর কোল, সদর ইউনিয়নের লোহারটেক কোল, গোপলপুর ঘাট এলাকায় সারা বছরই এরকম বাঁশ পুতে চায়না দুয়ারী পাতা হয়।
নাম প্রকাশ না করে অনেকেই বলেন, এসব বিষয়ে অবগত রয়েছে মৎস্য দপ্তর।

বিশাই মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মো. মোতাহার হোসেন (৬৯) বলেন, চায়না দুয়ারীর ব্যবহার রোধ করা না গেলে অচিরেই আমরা মাছের সংকটে পরব।
ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা সেখ সালাম বলেন, চায়না দুয়ারীর ব্যবহার এখন অনেক বেশি বেড়েছে। এর ব্যবহার রোধে আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

চরভদ্রাসন ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আত্তাফ মুন্সি বলেন, বর্তমান সময়ে মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে চায়না দুয়ারী। এর ফলে দেশীয় বাঁশের তৈরি চাঁই বা দুয়ারী বিলুপ্তির পথে। চায়না দুয়ারীর দুই দিকে মুখ ও যে কোনো স্থানে পাতা যায় বলে একচেটিয়া ভাবে ধরা পরে বিভিন্ন জাতের মাছ।

নদীতে অনেক চায়না দুয়ারী আছে এমন কথা স্বীকার করে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের মাসে একটি অভিজান ও একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে। এর বাইরে গিয়ে কিছু করার নেই। আমাদেরকে আমাদের মতো করেই সাধ্য অনুযায়ী অভিযান চালাতে হয়।

Facebook Comments Box

No tags found for this post.

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর গবেষণা ও শিল্প স্থাপনা পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক

৭২ ঘণ্টা পর পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত থেকে ১০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

লালমোহনের ছেলে ঢাকার মিরপুরে ১০০০ পিস ইয়াবাসহ আটক

আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লালমোহনে চাঁদা তোলার বৈধতা দিলেন পৌর প্রশাসক

লালমোহনের বেতুয়া খালে বসানো অবৈধ ১০ লাখ টাকার জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস

তজুমদ্দিনের সোনাপুরে জেলে ভিজিএফ চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগ

রাতের আঁধারে বিষের ছোবল, নিঃস্বতার মুখে এক কৃষকের স্বপ্ন

হেফজখানা নির্মাণকাজে বাধা, রামগতিতে উত্তেজনা

লালমোহনে দ্বীপ উন্নয়ন সোসাইটির উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে ছাগল বিতরণ

১০

সেন্টমার্টিনের কাছে ১,৭০০ বস্তা সিমেন্টসহ দুই বোট আটক, গ্রেপ্তার ২০

১১

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মামি-ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, চাঞ্চল্য

১২

লালমোহনের গজারিয়ার গর্ব — মিজানুর রহমান

১৩

ভোলায় গৃহবধূর সাহসী প্রতিরোধ: ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তের গোপনাঙ্গ কেটে দিলেন নারী

১৪

লালমোহনে সড়ক পাকা করণের দাবিতে মানববন্ধন

১৫

ঈদের দিনেও সীমান্তে তৎপর চৌগাছা থানা পুলিশ

১৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে বিদেশি মদের চালান উদ্ধার, আটক বাবা-ছেলে

১৭

লালমোহনে ধলীগৌর নগর আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দুস্থদের মধ্যে মাংস বিতরণ

১৮

ঢাকা ১৭ আসনের ভাষানটেক থানা বাসী’কে জানাই ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা: ইসমাইল হোসেন পলাশ

১৯

১৫ নং ওয়ার্ড বাসী কে ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা : গিয়াস উদ্দিন ফরাজি

২০