ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে ফেসবুকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, থানায় জিডি Logo নোয়াখালী জেলা যুবলীগের সভাপতি ইমন ভট্র গ্রেপ্তার Logo লালমোহন হা-মীমের আট শিক্ষার্থীর নটরডেম ও সেন্ট জোসেফে ভর্তির সুযোগ Logo হেলপার চালাচ্ছিল বাস, খাদে পড়ে আহত ১০ Logo বাঘাইছড়িতে ৪২ পরিবারের জন্য সৌরশক্তি চালিত নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প উদ্বোধন Logo সৎ সাহস থাকলে পালিয়ে নয়, আদালতে আসুন: ডা. জাহিদ Logo সাইবার বুলিং ঠেকাতে কার্যকর নীতি চায় আইআরআই, আইন সংশোধনে মতামত নিচ্ছে সরকার Logo মনপুরায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি ও সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত Logo “মনপুরায় দ্রুত জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও কলাতলীতে বেড়ীবাঁধ নির্মানের আশ্বাস -কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারন সম্পাদক ও এমপি নয়ন Logo কুড়িগ্রামে প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ে ভুয়া কাগজপত্র ও অনিয়মের অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে হরিজন বাসফোর সম্প্রদায়ের ৩৪টি পরিবার পেল নতুন বাড়ি

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
২৭০

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিজন বাসফোর সম্প্রদায়ের ৩৪টি পরিবার পেল দীর্ঘ ৫০ বছর পরনতুন বাড়ি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অঙ্গীকার কোন পরিবার গৃহহীন থাকবে না প্রকল্পের আওতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউপির কৃষ্ণপুরে এ বাসফোর পল্লীটি স্থাপন করা হয়। সেখানে উল্লেখিত ৩৪টি পরিবারের প্রায় ২শতাধিক সদস্য নিয়ে বসবাস শুরু করেছেন তারা। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে তাদেরকে বাড়িগুলি বুঝিয়ে দেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসন। জানা যায়, পৌর শহরের ফকিরপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নকর্মীদের ভুইমালী ও বাসফোর ২ সম্প্রদায়ের মানুষজন বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে প্রত্যেক বাড়ির একই ঘরে ৫/৬ জন সদস্য কষ্ট করে বসবাস করে আসছিলেন। এতে করে একই ঘরে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তানদের নিয়ে খুবই কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন তারা। সমস্ত পল্লীতে একটি মাত্র টিউবওয়েল ছিল। ঠিকমত পানিও খেতে পারতো না পরিবারের সদস্যরা। শৌচাগারও ছিল একটি মাত্র। সেখানে প্রত্যেক পরিবারের কলহ-বিবাদ লেগেই থাকতো। এ অবস্থায় ঐ ২ সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের কষ্টের কথা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসনকে জানান। পরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমি খোজার কাজ শুরু হয়। এক সময় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কৃষ্ণপুরে ঐ ২ সম্প্রদায়ের জন্য জমির বন্দোবস্ত হলে সেখানে শুরু হয় নতুন পাকা ঘর ও রঙিন টিনের তৈরী বাড়ি নির্মাণের কাজ। কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে ৩৪ টি বাসফোর সম্প্রদায়ের মানুষজনকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও ভুইমালী সম্প্রদায়ের কোন মানুষজন সেখানে বাড়ি ও ঘর গ্রহন করেননি। সেখানে ঘর ও নতুন বাড়ি পাওয়া রাজু বাসফোর বলেন, আমাদের নিজস্ব কোন বাড়ি-ঘর ছিল না। আগের বাসস্থলে আমরা অনেক কষ্ট করে জীবন কাটিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নতুন বাড়ি ও ঘর পেয়ে আমরা নতুন করে জীবন যাপনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। নতুন বাড়ি ও ঘরে উঠার পর থেকে আমাদের কষ্ট লাঘব হয়েছে, একারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। নতুন বাড়ি ও ঘর পাওয়া সামারিয়া বাসফোর নামে এক নারী বলেন, জীবনে আমরা যে পরিমান কষ্ট করেছি তা বলার মত নয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিকে তাকিয়েছেন। বর্তমানে আমরা নিশ্চিন্তে এখানে বসবাস শুরু করেছি।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো: সামসুজ্জামান বলেন, প্রায় ৩ মাস আগে বাসফোর সম্প্রদায়ের ৩৪টি পরিবারকে একটি করে নতুন বাড়ি প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার কোন পরিবার গৃহহীন থাকবে না প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবারকে ২ শতক করে জমি প্রদান করা হয়। এতে প্রত্যেক সদস্যকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫শ টাকা খরচ করে নতুন বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এক সময় তারা খুবই কষ্ট করে জীবন যাপন করে আসছিলেন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসন তাদেরকে নতুন ঘর ও বাড়ি দিতে পেরে অত্যন্ত খুশি। তারাও অনেক খুশি। তারা নতুন এই আবাসস্থল পাওয়ার কারনে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবেন। নিশ্চিন্তে ও স্বাচ্ছন্দে বসবাসের ফলে তাদের নতুন জীবন শুরু হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, সবচেয়ে পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠী হিসেবে বাসফোর সম্প্রদায়ের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে শহরের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা করে আসছেন। তাদের নিজস্ব বাড়ি-ঘর না থাকার কারনে তারা কষ্ট করে জীবন যাপন করছিলেন। এ কারনে তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নতুন বাড়ির বন্দোবস্ত করা হয়।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:০৯ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৭ জুলাই ২০২২ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে
Logo
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

ঠাকুরগাঁওয়ে হরিজন বাসফোর সম্প্রদায়ের ৩৪টি পরিবার পেল নতুন বাড়ি

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:০৯ অপরাহ্ণ, রবিবার, ১৭ জুলাই ২০২২
২৭০

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিজন বাসফোর সম্প্রদায়ের ৩৪টি পরিবার পেল দীর্ঘ ৫০ বছর পরনতুন বাড়ি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অঙ্গীকার কোন পরিবার গৃহহীন থাকবে না প্রকল্পের আওতায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউপির কৃষ্ণপুরে এ বাসফোর পল্লীটি স্থাপন করা হয়। সেখানে উল্লেখিত ৩৪টি পরিবারের প্রায় ২শতাধিক সদস্য নিয়ে বসবাস শুরু করেছেন তারা। চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে তাদেরকে বাড়িগুলি বুঝিয়ে দেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসন। জানা যায়, পৌর শহরের ফকিরপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নকর্মীদের ভুইমালী ও বাসফোর ২ সম্প্রদায়ের মানুষজন বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে প্রত্যেক বাড়ির একই ঘরে ৫/৬ জন সদস্য কষ্ট করে বসবাস করে আসছিলেন। এতে করে একই ঘরে স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা, ভাই-বোন, সন্তানদের নিয়ে খুবই কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন তারা। সমস্ত পল্লীতে একটি মাত্র টিউবওয়েল ছিল। ঠিকমত পানিও খেতে পারতো না পরিবারের সদস্যরা। শৌচাগারও ছিল একটি মাত্র। সেখানে প্রত্যেক পরিবারের কলহ-বিবাদ লেগেই থাকতো। এ অবস্থায় ঐ ২ সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের কষ্টের কথা ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসনকে জানান। পরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে জমি খোজার কাজ শুরু হয়। এক সময় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কৃষ্ণপুরে ঐ ২ সম্প্রদায়ের জন্য জমির বন্দোবস্ত হলে সেখানে শুরু হয় নতুন পাকা ঘর ও রঙিন টিনের তৈরী বাড়ি নির্মাণের কাজ। কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলের শেষের দিকে ৩৪ টি বাসফোর সম্প্রদায়ের মানুষজনকে বুঝিয়ে দেওয়া হলেও ভুইমালী সম্প্রদায়ের কোন মানুষজন সেখানে বাড়ি ও ঘর গ্রহন করেননি। সেখানে ঘর ও নতুন বাড়ি পাওয়া রাজু বাসফোর বলেন, আমাদের নিজস্ব কোন বাড়ি-ঘর ছিল না। আগের বাসস্থলে আমরা অনেক কষ্ট করে জীবন কাটিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নতুন বাড়ি ও ঘর পেয়ে আমরা নতুন করে জীবন যাপনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। নতুন বাড়ি ও ঘরে উঠার পর থেকে আমাদের কষ্ট লাঘব হয়েছে, একারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। নতুন বাড়ি ও ঘর পাওয়া সামারিয়া বাসফোর নামে এক নারী বলেন, জীবনে আমরা যে পরিমান কষ্ট করেছি তা বলার মত নয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দিকে তাকিয়েছেন। বর্তমানে আমরা নিশ্চিন্তে এখানে বসবাস শুরু করেছি।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তাহের মো: সামসুজ্জামান বলেন, প্রায় ৩ মাস আগে বাসফোর সম্প্রদায়ের ৩৪টি পরিবারকে একটি করে নতুন বাড়ি প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার কোন পরিবার গৃহহীন থাকবে না প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবারকে ২ শতক করে জমি প্রদান করা হয়। এতে প্রত্যেক সদস্যকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫শ টাকা খরচ করে নতুন বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এক সময় তারা খুবই কষ্ট করে জীবন যাপন করে আসছিলেন। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসন তাদেরকে নতুন ঘর ও বাড়ি দিতে পেরে অত্যন্ত খুশি। তারাও অনেক খুশি। তারা নতুন এই আবাসস্থল পাওয়ার কারনে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারবেন। নিশ্চিন্তে ও স্বাচ্ছন্দে বসবাসের ফলে তাদের নতুন জীবন শুরু হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মোঃ মাহবুবুর রহমান জানান, সবচেয়ে পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠী হিসেবে বাসফোর সম্প্রদায়ের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে শহরের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা করে আসছেন। তাদের নিজস্ব বাড়ি-ঘর না থাকার কারনে তারা কষ্ট করে জীবন যাপন করছিলেন। এ কারনে তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নতুন বাড়ির বন্দোবস্ত করা হয়।

Facebook Comments Box