তজুমদ্দিনে রাজনীতির নামে নারীর উপর পাশবিকতা, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কার ইব্রাহিম
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়ন মহিলা দলের সভানেত্রী মালেকা বেগমের ওপর সংঘটিত নৃশংস হামলার ঘটনায় চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।
শুক্রবার (৪ জুলাই) ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদার কিছু দুষ্কৃতিকারীকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের মহিলা দলেরই একজন নেত্রীকে নির্মমভাবে নির্যাতন করেছে। এটি নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক। তাই দল তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
ভিজিএফ তালিকা নিয়ে মতবিরোধ, তারপর বর্বর হামলা স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মাসে চাঁচড়া ইউনিয়নে ভিজিএফ ত্রাণের তালিকা তৈরি নিয়ে ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে মালেকা বেগমের মতবিরোধ হয়। তিনি নয়টি ওয়ার্ডের জন্য একশত সুবিধাভোগীর তালিকা চাইলেও তা কমিয়ে দিতে বলা হয়। এ নিয়ে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, চাঁচড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হাওলাদার, ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন কর্মচারী এবং কিছু মহিলা দলের সমর্থক মালেকা বেগমকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভেতরে টেনে নিয়ে যান। সেখানে তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে মুখ, মাথা ও পিঠে বেধড়ক মারধর করা হয়। এ সময় শত শত মানুষের সামনে তাকে উলঙ্গ করে চরম অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার করা হয়।
মামলা দায়ের হলেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ এ ঘটনার পর মালেকা বেগম নিজে বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করেন। তবে এখনো পর্যন্ত পুলিশ কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বরং ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পর উল্টো মালেকা বেগম এবং তার স্বজনদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মালেকা বেগম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বর্তমানে মালেকা বেগম নিজের বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি ও তার পরিবার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ, শাস্তির দাবিতে সোচ্চার নারী নেত্রীরা।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় তজুমদ্দিনসহ পুরো জেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও মহিলা দলের নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অনেকেই এ ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে দলকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র বলেও আখ্যায়িত করেছেন।



















