
ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের ভবন দখল নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা নোমান মুন্সির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, তিনি অবৈধভাবে ইউনিয়ন পরিষদের রুমের তালা ভেঙে বিদ্যুৎ কর্মীদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন এবং এর মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করেছেন।
বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ফোরম্যান জালাল জানান, তারা এর আগে ৪৫ দিন ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে অবস্থান করেছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অলি উল্যাহ কাজলের সহযোগিতায় এবং গত ১০ দিন ধরে নোমান মুন্সির মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি রুম ভাড়া নিয়েছেন। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ কর্মীদের থাকার জন্য নোমান মুন্সি ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষের তালা ভেঙে সেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা নোমান মুন্সি বলেন, “দক্ষিণ সাকুচিয়ায় বিদ্যুৎ কাজ চলছিল, তাই যারা এখানে কাজ করতে আসেন, তাদের থাকার জন্য আমি আমার বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষ ভাড়া দিয়েছি।” তিনি আরও জানান, “বৃষ্টির পানি ঢুকছিল, তাই ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষের তালা খুলে সেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছি।” তবে, এই বিষয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসকের কোনো পূর্বানুমতি নেননি বলেও স্বীকার করেছেন।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ হোসেন জানান, “তিন দিন আগে আমি পরিষদে গিয়ে দেখি কিছু লোক ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকটি কক্ষে অবস্থান করছে এবং বিদ্যুতের সরঞ্জাম মাঠে রাখা হয়েছে। আমি বিদ্যুৎ কর্মীদের কাছে জানতে পারি, নোমান মুন্সি তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন। আমি তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের সরিয়ে নিতে বলেছি।” তবে, প্রশাসক এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে কিছু জানায়নি বলে জানিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি জানান, “এই বিষয়ে আমি কিছুক্ষণ আগে জানলাম। এটি স্থানীয় সরকারের একটি সম্পত্তি, যা জোর করে দখল করা যাবে না। যারা এ কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এছাড়া, দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ১২টি ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন ইতোমধ্যেই বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন