
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ৬টি ইউনিয়নে পুরোদমে বোরো ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। ভোরের আকাশে সূয়্যে আলো উদিত হওয়ার আগেই কেউ জমিতে পানি সেচ দিচ্ছে। আবার কেউ জমি মই দিচ্ছে, জমিতে সার ছিটাচ্ছে আবার কেউ ধানের চারা উঠাচ্ছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অন্যন্য বছরের তুলনায় এ বছর বোরো আবাদ লক্ষ্যমা ছরিয়ে যাবে বলে মনে করে কৃষকেরা।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে চলতি ২০২৫-২৬ রবি মৌসুমে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ২০৫ হেক্টর। এর মধ্যে ব্রি ধান ৮৮, ব্রি ধান ৮৯, ব্রি ধান ৯২, ব্রি ধান ১০২, ব্রিধান ১১৪, ব্রি ধান ৮১, বিনা ধান ২৪, বিনা ধান ৩৫, ব্রি ধান ২৮, ব্রি ধান ২৯ জাতের বোরো ধানের চারা রোপণ করা হচ্ছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাইদুল ইসলাম, শাহজাহান আলী, কাশিপুর ইউনিয়নের মফিজুল ইসলাম, শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চান মিয়া বলেন এলাকায় শ্রমিক সংকট থাকলেও কম মজুরীতেই জমিতে বোরো ধানের চারা রোপণ করতে হচ্ছে। তবে গতবছরের চেয়ে এবছর খরচ একটু বেশি হচ্ছে। যদি ন্যায্য দাম না পাওয়া যায়, তাহলে বিশাল ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, শীতের তীব্রতা একটু কমে গেলেই কৃষকরা পুরো দমে নেমে যাবে মাঠে। সেই হিসেবে আগামী ৬-৭ দিনের মধ্যে শতভাগ জমিতে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণ কাজ সম্পন্ন হবে ধারণা করা যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে তারা বোরো ধানের বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছেন।
ফুলবাড়ী উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফকরুল ইসলাম জানান, এবারের বোরো মৌসুমে কৃষকদের সরকারী ভাবে ধান বীজ বিতরণ করা হয়েছে এছাড়াও বোরে চাষিরা যেন সঠিকভাবে ফসল চাষাবাদ ও পরিচর্যা করতে পারে, সে দিকে লক্ষ রেখে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে সার্বিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াছমিন বলেন , উপজেলার সকল কৃষকদের বোরো ধান চাষে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি জমির রোপণ কাজ শেষ হবে। রোপণ শেষ হলে পরবর্তীতে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করার জন্য আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি স্থাপন করা হবে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে বোরো ধান আবাদ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন