ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপদেষ্টা: সরকারের আকার বাড়লেই কি বাড়ে সক্ষমতা? Logo নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা Logo ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৮৩৯ Logo সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর Logo তজুমদ্দিনে ৪১টি চান্দিনা ভিটা বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন। Logo তেঁতুলিয়ায় ১০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার Logo ইসকনের নামে অনুদান, জমির মালিকানা নিয়ে নতুন বিতর্ক অর্থ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ Logo দক্ষিণ আইচা কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নির্বাচন: সভাপতি ফরিদ, সম্পাদক সাইফুল Logo রূপগঞ্জে জামদানি শাড়ির নকশা বৈচিত্র ও রং বিন্যাস বিষয়ক কর্মশালা Logo স্থানীয় সরকারে ড. মঈন খান: সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো

লাখো ভক্তের সমাগমে আটরশিতে শুরু বিশ্ব উরস শরীফ

প্রতিনিধির নাম
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৫৮৬

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহামহিম প্রতিষ্ঠতা বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরিফ শুরু হয়েছে।

সাম্য, শান্তি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছরের মত এবারও লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে শুক্রবার জুমার বিশাল জামাতের পর বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে উরস শরীফ শুরু হয়।

ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে চার দিনব্যাপী এই উরস শরীফ ১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। উরস শরীফ উৎযাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই লক্ষ ভক্তবৃন্দ সমবেত হয়েছেন। মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব উরস শরীফ।

মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ উপলক্ষে নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়েছে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেকান, জাকেরান, ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমান ও ভক্তবৃন্দ সমবেত হচ্ছেন বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে। ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাতসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন রাত ৩টায় রহমতের সময় থেকে শুরু করে এশার নামাজের পর দয়াল নবীকে ৫০০ বার দূরুদ শরীফ নজরানা দিয়ে কর্যক্রম শেষ হয় বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের। দিনব্যাপি চলতে থাকে ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ মোনাজাত।

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের সুমহান প্রতিষ্ঠতা বিশ্ব ওলী হয়রত খাজাবাবা ফরিদপুরী ১৩৫৪ বাংলায় ফরিদপুরের সদরপুরে আটরশি গ্রামে আসেন।

আটরশির নিভৃত পল্লীতে জাকের ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে তিনি রাসুল (সাঃ) এর সত্য তরিকা প্রচার শুরু করেন। খাজাবাবা প্রথমে যেদিন আটরশিতে আসেন সেইদিন ছিল কোরবানীর ঈদের দিন। তিনি দেখলেন সেই ঈদের দিনে লোকজন লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে নামাজ ছিল না-সমাজ ছিল না। ধনী, মানী, জ্ঞানী, গুণী লোক ছিল না। গরু কোরবানী হতো না। গরুর গোস্তকে এই এলাকার মোসলমানেরা অস্পৃশ্য মনে করত। ইসলাম কি-তারা জানত না। পার্শ্বেই ছিল হিন্দু জমিদারের বাড়ী। এই এলাকার মোসলমানগণ জমিদার বাড়ীর পূজায় অংশ গ্রহণ করত; পূজার প্রসাদ খাইত। তারা হিন্দুয়ানী রীতিকে ভালবাসিত। হিন্দুয়ানী রীতিতেই চলিত। ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ তাদের কাছে অপরিচিত ছিল। আটরশির মত এত নিকৃষ্ট গ্রাম বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি ছিল না। সেই ঈদের দিনে তিনজন নিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করলেন খাজাবাবা। খোদাতায়ালার নিকট এই দু’আ করলেন, ‘‘হে খোদাতায়ালা!
এই যে তিন/চার জন আমরা ঈদের নামাজ পড়িলাম। দয়া করিয়া তুমি এখানে বিশাল ঈদের জামাত কায়েম কর।”
মহান খোদাতায়ালার দয়ায় আজ এখানে বিশাল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ একসাথে নাজাম আদায় করে।

এই ফরিদপুর জেলার গেরদা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেছিলেন হযরত ফরিদপুরী (কুঃ) ছাহেবের দাদাপীর হযরত সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহঃ)। তিনি সেখানে সত্য ইসলামের হিদায়াত করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং মনে কষ্ট নিয়ে কলকাতা চলে গিয়েছিলেন ফরিদপুর ছেড়ে।

তবে কলকাতা যাবার প্রাক্কালে তিনি ভবিষৎবাণী করে গিয়েছিলেন, “এখানে আমার গোলামের গোলাম আসবে যার সামনে কোন অপশক্তিই টিকবেনা।” সেই মহান বুযুর্গের গোলাম হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) এবং উনার গোলাম খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) সাহেব যিনি স্বীয় দাদাপীরের ভবিষ্যত বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত করেছেন এবং হিদায়েতের বাণী প্রচারে, ইসলামের সত্য প্রচারে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশাল পুণ্য ভুমি “বিশ্ব জাকের মঞ্জিল”। তিনি রাসুল (সাঃ) এর আদর্শে আদর্শবান হয়ে গড়েছিলেন নিজের জীবনকে, নিজের পীরের সংস্পর্শে সুদীর্ঘ ৪০ বছর সাধনা করেন। তিনি ছিলেন রাসুল (সাঃ) এর সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসারী, জীবনযাত্রা ছিল রাসুল (সাঃ) এর চরিত্রের বাস্তব চিত্র।

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩১:০৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ৩৯৬ বার পড়া হয়েছে
Logo
সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

লাখো ভক্তের সমাগমে আটরশিতে শুরু বিশ্ব উরস শরীফ

আপডেট সময় : ০৮:৩১:০৩ অপরাহ্ণ, শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
৫৮৬

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের মহামহিম প্রতিষ্ঠতা বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরিফ শুরু হয়েছে।

সাম্য, শান্তি ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দিতে প্রতিবছরের মত এবারও লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে শুক্রবার জুমার বিশাল জামাতের পর বিশ্ব ওলি হজরত শাহ সুফি খাজাবাবা ফরিদপুরী (কু.ছে.আ.) কেবলাজান ছাহেবের পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে উরস শরীফ শুরু হয়।

ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আটরশি গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে চার দিনব্যাপী এই উরস শরীফ ১০, ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। উরস শরীফ উৎযাপনের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই লক্ষ ভক্তবৃন্দ সমবেত হয়েছেন। মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব উরস শরীফ।

মহাপবিত্র বিশ্ব উরস শরীফ উপলক্ষে নান্দনিক সাজে সজ্জিত করা হয়েছে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ আশেকান, জাকেরান, ধর্মপ্রাণ মুমিন মুসলমান ও ভক্তবৃন্দ সমবেত হচ্ছেন বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে। ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাতসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন রাত ৩টায় রহমতের সময় থেকে শুরু করে এশার নামাজের পর দয়াল নবীকে ৫০০ বার দূরুদ শরীফ নজরানা দিয়ে কর্যক্রম শেষ হয় বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের। দিনব্যাপি চলতে থাকে ধর্মীয় আলোচনা ও বিশেষ মোনাজাত।

বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের সুমহান প্রতিষ্ঠতা বিশ্ব ওলী হয়রত খাজাবাবা ফরিদপুরী ১৩৫৪ বাংলায় ফরিদপুরের সদরপুরে আটরশি গ্রামে আসেন।

আটরশির নিভৃত পল্লীতে জাকের ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে তিনি রাসুল (সাঃ) এর সত্য তরিকা প্রচার শুরু করেন। খাজাবাবা প্রথমে যেদিন আটরশিতে আসেন সেইদিন ছিল কোরবানীর ঈদের দিন। তিনি দেখলেন সেই ঈদের দিনে লোকজন লাঙ্গল-জোয়াল নিয়ে মাঠে যাচ্ছে। এই অঞ্চলে নামাজ ছিল না-সমাজ ছিল না। ধনী, মানী, জ্ঞানী, গুণী লোক ছিল না। গরু কোরবানী হতো না। গরুর গোস্তকে এই এলাকার মোসলমানেরা অস্পৃশ্য মনে করত। ইসলাম কি-তারা জানত না। পার্শ্বেই ছিল হিন্দু জমিদারের বাড়ী। এই এলাকার মোসলমানগণ জমিদার বাড়ীর পূজায় অংশ গ্রহণ করত; পূজার প্রসাদ খাইত। তারা হিন্দুয়ানী রীতিকে ভালবাসিত। হিন্দুয়ানী রীতিতেই চলিত। ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ তাদের কাছে অপরিচিত ছিল। আটরশির মত এত নিকৃষ্ট গ্রাম বাংলাদেশে আর দ্বিতীয়টি ছিল না। সেই ঈদের দিনে তিনজন নিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করলেন খাজাবাবা। খোদাতায়ালার নিকট এই দু’আ করলেন, ‘‘হে খোদাতায়ালা!
এই যে তিন/চার জন আমরা ঈদের নামাজ পড়িলাম। দয়া করিয়া তুমি এখানে বিশাল ঈদের জামাত কায়েম কর।”
মহান খোদাতায়ালার দয়ায় আজ এখানে বিশাল ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ একসাথে নাজাম আদায় করে।

এই ফরিদপুর জেলার গেরদা ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেছিলেন হযরত ফরিদপুরী (কুঃ) ছাহেবের দাদাপীর হযরত সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (রহঃ)। তিনি সেখানে সত্য ইসলামের হিদায়াত করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং মনে কষ্ট নিয়ে কলকাতা চলে গিয়েছিলেন ফরিদপুর ছেড়ে।

তবে কলকাতা যাবার প্রাক্কালে তিনি ভবিষৎবাণী করে গিয়েছিলেন, “এখানে আমার গোলামের গোলাম আসবে যার সামনে কোন অপশক্তিই টিকবেনা।” সেই মহান বুযুর্গের গোলাম হযরত এনায়েতপুরী (কুঃ) এবং উনার গোলাম খাজাবাবা ফরিদপুরী (কুঃ) সাহেব যিনি স্বীয় দাদাপীরের ভবিষ্যত বাণী অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত করেছেন এবং হিদায়েতের বাণী প্রচারে, ইসলামের সত্য প্রচারে প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশাল পুণ্য ভুমি “বিশ্ব জাকের মঞ্জিল”। তিনি রাসুল (সাঃ) এর আদর্শে আদর্শবান হয়ে গড়েছিলেন নিজের জীবনকে, নিজের পীরের সংস্পর্শে সুদীর্ঘ ৪০ বছর সাধনা করেন। তিনি ছিলেন রাসুল (সাঃ) এর সুন্নতের পরিপূর্ণ অনুসারী, জীবনযাত্রা ছিল রাসুল (সাঃ) এর চরিত্রের বাস্তব চিত্র।

Facebook Comments Box