
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বড়দিয়া এলাকায় প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করেছে “বড়দিয়া হাট”। রবিবার (২৪ মে) উদ্বোধনী দিনেই কৃষক, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় আর সরব উপস্থিতিতে হাটজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই হাটটি চালু হওয়ায় যাতায়াত খরচ কমার পাশাপাশি এলাকার কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে দারুণ লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
হাট পরিচালনা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এখন থেকে সপ্তাহে প্রতি বুধবার ও রবিবার নিয়মিতভাবে এই বড়দিয়া হাট বসবে। উদ্বোধনের প্রথম দিনেই হাটে প্রায় ১৫ জন পাইকারি ব্যবসায়ী এবং দুই শতাধিক স্থানীয় কৃষক অংশ নেন। গট্টি ও তালমা ইউনিয়নসহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল হাট প্রাঙ্গণ। প্রথম দিনেই হাটে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পেঁয়াজ, ভূষি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের ব্যাপক বেচাকেনা লক্ষ্য করা গেছে।
হাটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু এবং তালমা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন মিয়া।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে আশা প্রকাশ করে বলেন, “নতুন এই হাটটি অত্র এলাকার কৃষি খাতের উন্নয়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।”
হাটে আসা এক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “এই অঞ্চলে প্রচুর পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। হাটের প্রথম দিনেই খুব ভালো বেচাকেনা হয়েছে, আমি নিজেই প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মণ পেঁয়াজ কিনেছি। নতুন হাট হিসেবে মানুষের উপস্থিতি ছিল চমৎকার।”
অন্য এক ব্যবসায়ী জানান, “কাছে হাট হওয়াতে আমাদের যাতায়াত খরচ ও সময় দুটোই বেঁচে গেছে। ফলে ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক সহজ হবে। তবে কুমার নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এই হাটটি আরও বড় পরিসরে জমবে।”
হাটে পণ্য বিক্রি করতে আসা স্থানীয় এক কৃষক বলেন, “আগে অন্য দূরের হাটে ফসল নিয়ে যেতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়তি গাড়িভাড়া লাগত। এখন ঘরের কাছে হাট হওয়াতে একদম কম খরচে ও সহজে পণ্য বিক্রি করতে পারছি।”
হাটের অন্যতম উদ্যোক্তা লুৎফর রহমান বলেন, “প্রথম দিনেই আমরা প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি সাড়া পেয়েছি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে আপাতত হাট থেকে কোনো ধরনের খাজনা বা টোল নেওয়া হচ্ছে না।”
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের দাবি, বড়দিয়া এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুমার নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা এখন সময়ের দাবি। যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হলে এই বড়দিয়া হাটটি ভবিষ্যতে অত্র অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন