তজুমদ্দিনে মুহাম্মদ ভোলা দাখিল মাদ্রাসার মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট থেকে ২০ বছর যাবত বেতন তুলছেন সহকারী শিক্ষক
ভোলার তজুমদ্দিনে বিধিবহির্ভূত নিয়োগ নিয়ে এক মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোঃ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৩/০৩/১৯৯৪ তারিখে মোঃ মহিউদ্দিন জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। যার ইনডেক্স নং ৩৬৪৭৭৬, ব্যাংক হিসাব নং ৪৬০৬, এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়।
এরপর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজ অফিস সহকারী মোঃ মহিউদ্দিন পিতা আছমত আলী মহাজন, যার ইনডেক্স নং ৬০২৭৮২, ব্যাংক হিসাব নং ৪৫৭৭, গত ০৭/০৯/২০০৬ তারিখে বিধি বহির্ভূত ভাবে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। তিনি বর্তমানে তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন চালু হওয়ার পর তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধিবহির্ভূতভাবে পূর্বের ইনডেক্স ব্যবহার এবং মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন শিক্ষক মহিউদ্দিন। যাহা সম্পূর্ণ জাল-জালিয়াতি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোঃ মহিউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হিসাব নাম্বার (৪৬০৬) এক হলেও ওই একাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি। নিয়োগ কালে কোন রকম তথ্য গোপন করা হয়নি।
তবে ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতে মৃত মহিউদ্দিনের হিসাব নাম্বার ৪৬০৬ থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের প্রমান পাওয়া যায়।
এবিষয়ে মোঃ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওঃ নুরুজ্জামান বলেন, আমি নিয়োগ পাওয়ার পর বিষয়টি অবগত হয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কারন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত শিক্ষক বা পদ সৃষ্টি করে নিয়োগ দেওয়া হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা থাকায় লিখিত আবেদনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রেজাউল করিম জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন প্রেরন করা হবে।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।



















