ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
Logo যশোরের শার্শায় রাতারাতি বিএনপি সেজে সারের ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা বানিজ্যের অভিযোগ Logo হামের টিকা ক্যাম্পেইনেও ভোলায় নীরবতা, প্রশ্নের মুখে সিভিল সার্জন Logo কালিয়াকৈরে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ, শয্যা সংকটের আশঙ্কা Logo গ্রিড উপকেন্দ্রে ব্রেকার বিস্ফোরণ,নোয়াখালী শহরে বিদ্যুৎ বিপর্যয় Logo সাবেক স্ত্রীর বিয়ে, ছেলেকে হত্যার অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার Logo নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এক ঘণ্টার বেশি রোদে দাঁড় করিয়ে রাখার অভিযোগ Logo এক ট্রলারে ধরা পড়ল ৬০ মণ ইলিশ Logo সেতুর স্ল্যাবে রডের বদলে জিআই তার দিয়ে ঢালাই, উপজেলা প্রকৌশলী বদলি Logo ভোলায় জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে চ্যাম্পিয়ন লালমোহনের হা-মীম Logo সীমানা প্রাচীর নেই, ব্যস্ত সড়কেই ঝুঁকি: কুশলনাথ স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

যশোরের শার্শায় রাতারাতি বিএনপি সেজে সারের ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা বানিজ্যের অভিযোগ

মোঃযায়েদ আলী জাহিদ যশোর জেলা প্রতিনিধি।
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
৬

যশোরের শারশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে সরকারি সারের ডিলারশিপ এক সাবেক সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে চরম অসন্তোষ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিগত ১৭ বছর সুবিধা ভোগ করা আওয়ামী পরিবারের সদস্যকে রাতারাতি ‘বিএনপি’ সাজিয়ে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়নের ডুবপাড়া গ্রামের মো. বাবর আলীর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম এবং তার বাবা দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। এমনকি শফিকুলের বাবা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা ছিলেন বলেও নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।
ঐতিহাসিক ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুথানের কিছুদিন আগে স্থানীয় সাংবাদিক আবুল হোসেনের সাথে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন শফিকুল। ওই ঘটনায় সাংবাদিক আবুল হোসেন তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে, কৌশলী শফিকুল ওই মামলাকে ‘রাজনৈতিক মামলা’ হিসেবে প্রচার করে নিজেকে বিএনপির নির্যাতনের শিকার কর্মী বলে দাবি করতে শুরু করেন।
তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিগত ১৭ বছরে বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের কোনো মিছিল, মিটিং কিংবা দলীয় কর্মসূচিতে শফিকুলকে কখনো দেখা যায়নি। এমনকি ৫ই আগস্টের পরেও বিএনপির কোনো সভা-সমাবেশ বা কার্যক্রমে তার ন্যূনতম উপস্থিতি ছিল না।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন অসাধু নেতাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ম্যানেজ করেন শফিকুল। এর মাধ্যমে তিনি নিজের মালিকানাধীন ‘মেসার্স আরাফাত গ্রীন ফার্ম’-এর অনুকূলে টিসিবি (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ)-র খাদ্যসামগ্রী বিক্রয়ের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেন।
টিসিবির ডিলারশিপ পেয়েই খান্ত হননি শফিকুল; এবার বিএডিসি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ইউনিয়নভিত্তিক সরকারি সারের ডিলারশিপের তালিকাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারের এই ডিলারশিপটি পুরোপুরি নিজের নামে নিশ্চিত করতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার লেনদেনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
সার ডিলারশিপের তালিকায় আওয়ামী পরিবারের নাম কীভাবে এলো—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন , “তালিকাটি তৈরি করেছেন ইউনিয়নের প্রশাসক ও বিআরডিবি অফিসার জনাব সাকের উদ্দিন। আমি তাকে বিতর্কিত ব্যক্তির নাম থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি দায়সারা উত্তর দিয়ে বলেন—’কে আওয়ামী লীগ আর কে বিএনপি, তা কি কারও শরীরে লেখা আছে?’”

তবে ইউনিয়ন প্রশাসক ও বিআরডিবি অফিসার জনাব সাকের উদ্দিনের দাবি ভিন্ন। তিনি বলেন, “নিয়ম না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে আমি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবি ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম। তিনি আমাকে সব ঠিক আছে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। শফিকুল যে ইতোমধ্যেই টিসিবির ডিলার কিংবা সে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিল—এ তথ্যগুলো আমি জানিনা।
একই আওয়ামী কর্মী ও পরিবারের সদস্য কীভাবে সরকারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ডিলারশিপ একা দখল করে নেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, রাজপথের নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের এই চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিলারশিপ আবেদনকারী মো. শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলা হলে তিনি আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কোনোদিন আওয়ামী লীগ করিনি। এত হিসাব-নিকাশ আমি বুঝি না। সরকারি নিয়ম মেনে ইউনিয়ন থেকে আমার প্রতিষ্ঠানের নাম পাঠানো হয়েছে।”

Facebook Comments Box

Newsletter

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
Logo
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ফজরসময়
জোহরসময়
আসরসময়
মাগরিবসময়
ইশাসময়
সূর্যোদয় :সময়সূর্যাস্ত :সময়

যশোরের শার্শায় রাতারাতি বিএনপি সেজে সারের ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা বানিজ্যের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৩৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬

যশোরের শারশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নে সরকারি সারের ডিলারশিপ এক সাবেক সক্রিয় আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে চরম অসন্তোষ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বিগত ১৭ বছর সুবিধা ভোগ করা আওয়ামী পরিবারের সদস্যকে রাতারাতি ‘বিএনপি’ সাজিয়ে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়নের ডুবপাড়া গ্রামের মো. বাবর আলীর ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম এবং তার বাবা দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। এমনকি শফিকুলের বাবা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা ছিলেন বলেও নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা।
ঐতিহাসিক ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুথানের কিছুদিন আগে স্থানীয় সাংবাদিক আবুল হোসেনের সাথে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন শফিকুল। ওই ঘটনায় সাংবাদিক আবুল হোসেন তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ৫ই আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে, কৌশলী শফিকুল ওই মামলাকে ‘রাজনৈতিক মামলা’ হিসেবে প্রচার করে নিজেকে বিএনপির নির্যাতনের শিকার কর্মী বলে দাবি করতে শুরু করেন।
তবে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিগত ১৭ বছরে বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের কোনো মিছিল, মিটিং কিংবা দলীয় কর্মসূচিতে শফিকুলকে কখনো দেখা যায়নি। এমনকি ৫ই আগস্টের পরেও বিএনপির কোনো সভা-সমাবেশ বা কার্যক্রমে তার ন্যূনতম উপস্থিতি ছিল না।
অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন অসাধু নেতাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে ম্যানেজ করেন শফিকুল। এর মাধ্যমে তিনি নিজের মালিকানাধীন ‘মেসার্স আরাফাত গ্রীন ফার্ম’-এর অনুকূলে টিসিবি (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ)-র খাদ্যসামগ্রী বিক্রয়ের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেন।
টিসিবির ডিলারশিপ পেয়েই খান্ত হননি শফিকুল; এবার বিএডিসি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ইউনিয়নভিত্তিক সরকারি সারের ডিলারশিপের তালিকাতেও তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারের এই ডিলারশিপটি পুরোপুরি নিজের নামে নিশ্চিত করতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার মাধ্যমে ১০ লাখ টাকার লেনদেনের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।
সার ডিলারশিপের তালিকায় আওয়ামী পরিবারের নাম কীভাবে এলো—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন , “তালিকাটি তৈরি করেছেন ইউনিয়নের প্রশাসক ও বিআরডিবি অফিসার জনাব সাকের উদ্দিন। আমি তাকে বিতর্কিত ব্যক্তির নাম থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি দায়সারা উত্তর দিয়ে বলেন—’কে আওয়ামী লীগ আর কে বিএনপি, তা কি কারও শরীরে লেখা আছে?’”

তবে ইউনিয়ন প্রশাসক ও বিআরডিবি অফিসার জনাব সাকের উদ্দিনের দাবি ভিন্ন। তিনি বলেন, “নিয়ম না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে আমি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবি ভাইয়ের সাথে কথা বলেছিলাম। তিনি আমাকে সব ঠিক আছে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। শফিকুল যে ইতোমধ্যেই টিসিবির ডিলার কিংবা সে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ছিল—এ তথ্যগুলো আমি জানিনা।
একই আওয়ামী কর্মী ও পরিবারের সদস্য কীভাবে সরকারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ ডিলারশিপ একা দখল করে নেয়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, রাজপথের নির্যাতিত ও ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের এই চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ডিলারশিপ আবেদনকারী মো. শফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলা হলে তিনি আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কোনোদিন আওয়ামী লীগ করিনি। এত হিসাব-নিকাশ আমি বুঝি না। সরকারি নিয়ম মেনে ইউনিয়ন থেকে আমার প্রতিষ্ঠানের নাম পাঠানো হয়েছে।”

Facebook Comments Box