গণঅভ্যুত্থানের পর চাকরি হারিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার স্বপ্ন দেখেছিলেন ভোলার দক্ষিণ আইচা থানার চর মনিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরুণ উদ্যোক্তা আল ফাহাদ। সংসারের হাল ধরতে শেষ সম্বল, সঞ্চয় আর ধারদেনা করে গড়ে তুলেছিলেন সবজির খামার। ভেবেছিলেন, কৃষিই হবে তার নতুন জীবনের আশার আলো। কিন্তু প্রকৃতির নির্মম আঘাতে সেই স্বপ্ন আজ চোখের সামনেই পানি আর কাদা মাটিতে মিশে গেছে।
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে তার সবজি ক্ষেত। পানির নিচে নষ্ট হয়ে গেছে পরিশ্রমে গড়া ফসল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। মাঠে দাঁড়িয়ে এখন শুধু ডুবে যাওয়া স্বপ্নের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন এই তরুণ কৃষক।
কণ্ঠ ভারী করে আল ফাহাদ বলেন,
”চাকরি হারানোর পর ভেবেছিলাম কৃষিই আমাকে বাঁচাবে। অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে চাষ শুরু করেছিলাম। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেল। এখন ধার দেনা কীভাবে শোধ করব, পরিবারকে কীভাবে চালাব,কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না।
শুধু আল ফাহাদ নন, একই দুর্যোগে দক্ষিণ আইচা ও আশপাশের এলাকায় অসংখ্য কৃষকের ফসলি জমি, সবজি ক্ষেত, মাছের খামার ও পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদিকে প্রকৃতির তাণ্ডব, অন্যদিকে ঋণের বোঝা সব মিলিয়ে হতাশায় দিন কাটছে কৃষকদের।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ পুনঃতফসিল এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা না হলে অনেকেই পথে বসবেন। তাদের ভাষায়, “বৃষ্টি শুধু ফসলই নষ্ট করেনি, আমাদের ভবিষ্যতের স্বপ্নও ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন